ঈদের ছুটিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে ব্যাপক পতন, ক্রেতা সংকটে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত
ঈদের ছুটিতে ঢাকার কাঁচাবাজারে সবজির দামে পতন, ক্রেতা সংকট

ঈদের ছুটিতে ঢাকার কাঁচাবাজারে সবজির দামে ব্যাপক পতন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটির প্রভাবে রাজধানী ঢাকার কাঁচাবাজারের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। নাড়ির টানে রাজধানীবাসীর একটি বড় অংশ ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতার আনাগোনা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই কারণে বাজারে পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও ক্রেতা সংকটে অধিকাংশ সবজির দাম নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে সবজির দামের হালচাল

সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে জানা যায়, বাজারে লেবু ছাড়া বাকি প্রায় সব পণ্যের দাম কমেছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা। মানভেদে প্রতি হালি লেবুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম জানান, "এখন দোকানে যা আছে সব ঈদের আগে কেনা। নতুন করে পণ্য আনা হয়নি। অনেক সবজি কেনা দামের চেয়ে কমে বিক্রি করছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সালাদ সামগ্রী শসা ও টমেটো লসে বিক্রি করছেন, যেখানে শসা কেনা ৬০ টাকা হলেও বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। টমেটো মিলছে ৪০ টাকায়, এবং ১২০ টাকার নিচেই মিলছে এক কেজি কাঁচামরিচ।

বিভিন্ন সবজির দামের অবস্থা

এদিকে বাজারে দেশি শিম মিলছে ৬০ টাকা কেজিতে, বেগুনের দাম ১০০ থেকে কমে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি পুরো রমজানজুড়ে শতকের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়া পটল, করলা, বরবটিসহ বেশিরভাগ সবজির দাম নেমে এসেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আমদানি করা এক কেজি রসুন কিনতে দিতে হবে ২২০ টাকা, আর ১৮০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত আছে আদা। পেঁয়াজের খুচরা বাজারেও দাম কমেছে, যেখানে ক্রেতা আব্দুল মান্নান বলেন, "রমজানের শুরুতে ৩ কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ ১২০ টাকায় কিনলাম।" খুচরা বিক্রেতারা জানান, ৬০-৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • আলুর দাম কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে কমে ১৫-২০ টাকায় নেমেছে।
  • নতুন সবজির মধ্যে সজনে পাওয়া যাচ্ছে ১২০ টাকায়, আর কচুর লতি ১০০ টাকায়।
  • ঢেঁড়শ ৮০ টাকা ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়।
  • মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
  • কাঁচকলা ১০০ টাকা হালি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও কৃষকদের উদ্বেগ

বিক্রেতারা জানান, সবজির নতুন সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা কম, তাই দাম কমছে। অতিরিক্ত দাম বাড়া যেমন ভালো নয়, তেমনি দ্রুত দাম কমে যাওয়াও কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর। একটি ন্যায্যমূল্য থাকা উচিত বলে তারা মত প্রকাশ করেন। সবজি বিক্রেতা আসলাম বলেন, "রমজানের শুরুতে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়ে, পরে কমে যায়। তবে এবার পেঁয়াজ, টমেটো ও আলুর দাম বেশি কমেছে। কাঁচামরিচ, শসা ও বেগুনের দামও কমেছে।" এই পরিস্থিতি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।