রমজানে বাজারে সবজির দামে অস্থিরতা, আটা-ডিম-মুরগির দামে স্বস্তি
রমজানে বাজারে সবজির দামে অস্থিরতা, কিছু পণ্যে স্বস্তি

রমজানে বাজারে সবজির দামে অস্থিরতা, আটা-ডিম-মুরগির দামে স্বস্তি

রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহেও রাজধানীর বাজারে স্বস্তি ফেরেনি বেগুন, শসা ও খেজুরের দামে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা, ময়দা, পেঁয়াজ, ডিম ও মুরগির দাম কমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজার ও শান্তিনগর বাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, প্রতি বছর রমজানে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের চাহিদা একসঙ্গে বেড়ে যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দামের ওপর। বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, রমজানে সবজি জাতীয় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। তবে এখন আবার দাম কমে আসছে।

সবজির বাজার পরিস্থিতি

গতকাল বাজারঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝে পণ্য দুটির দাম কমলেও গতকাল তা আবার বেড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে পণ্য দুটির দাম বাড়ার তথ্য জানিয়েছে। তবে খিরা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দাম কমেছে লেবু, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের। বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি হালি লেবু ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। যা রমজানের শুরুতে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে। যা ভোক্তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লেবুর দাম বৃদ্ধির কারণ

কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, লেবুর ভরা মৌসুম গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গাছে ফুল আসে। এ সময় ফলন স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। যদিও কিছু গাছে সারা বছর অল্প পরিমাণে লেবু ধরে এবং চায়নিজ জাতের কিছু লেবুও বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু যেহেতু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই এখন লেবুর দাম বেশি। তবে আর মাসখানেক পর বাজারে লেবুর সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম আরো কমে যাবে।

অন্যান্য পণ্যের দামের অবস্থা

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি কেজি দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬৫ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরাবাজারে খোলা আটা, ময়দা, ডিম ও মুরগির দামও কমেছে। প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমে গতকাল বাজারে প্রতি কেজি খোলা সাদা আটা ৪০ থেকে ৪৬ টাকা ও খোলা ময়দা ৪৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ডিমের দামও। বর্তমানে খুচরাবাজারে ফার্মের বাদামি রঙের ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খেজুরের দামের অবস্থা

তবে এবার রমজানের শুরু থেকেই খেজুরের দাম বেশি। বর্তমানে বাজারে সাধারণ মানের প্রতি কেজি খেজুর ৩২০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খেজুর আমদানি হয়েছে ৪৯ হাজার ৮০৭ টন। গত বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৪৪ হাজার ৭১৬ টন। অর্থাত্ আমদানি বেড়েছে ৫ হাজার ৯১ টন বা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

খেজুরের আমদানি বাড়ার পাশাপাশি দাম সহনীয় রাখতে সরকার আমদানি শুল্কও কমিয়েছে। কিন্তু বাজারে খেজুরের দাম বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও চাহিদার চাপে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।