বিগত সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় যাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। বুধবার (৬ মে) জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিন প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমাদের কমিটি গঠিত হয়েছে। যত ধরনের ফেইক বেনিফিশিয়ারি লিস্ট ছিল, এই লিস্টগুলোকে রিভিজিট করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাভোগীদের যে তালিকা রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সুবিধাভোগী নির্বাচনে নতুন পদ্ধতি
ফারজানা শারমিন বলেন, আমাদের প্রক্সিমিটি টেস্টের মাধ্যমে আমরা বেনিফিশিয়ারি সিলেক্ট করছি। যাদের চাহিদা আছে, যারা পাওয়ার যোগ্য, দল-মত সকল কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সেই যোগ্য মানুষের কাছে যেন তাদের বেনিফিটটা পৌঁছায়, সেটা নিশ্চিতকরণের জন্য ইতোমধ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছেই পৌঁছায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। প্রান্তিক লেভেল এবং ওপরের লেভেলের যদি সমন্বয়টা ভালোমতো হয়, তাহলে অবশ্যই এটা কার্যকর হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নতুন করে সাজিয়েছে বিএনপি সরকার। ফারজানা শারমিন বলেন, বাড়ছে তো। ফ্যামিলি কার্ডের মত এতো বড় একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম যেটা দেশে এবং বিদেশে সকলে অনেক বেশি প্রেইস করেছেন, একসেপ্ট করেছেন।
স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য
তিনি বলেন, কেবলমাত্র কার্ড দিয়ে, ভাতা দিয়ে মাসিকভিত্তিতে তাদেরকে আমরা সেটার ওপর ডিপেন্ডেন্ট করে রাখতে চাচ্ছি না। বরং সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করে তাদের জাতীয় অর্থনীতির ভেতরে কানেক্ট করা যায়, সেটারই চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।
জেলা প্রশাসকদের মতামত
সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে জেলা প্রশাসকদের তরফে কোনো সমস্যার কথা এসেছে কিনা জানতে চাইলে ফারজানা শারমিন বলেন, উনারা অনগোয়িং প্রবলেমগুলোকে আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করেছেন। আসলে সময় তো খুব অল্প থাকে, যতটুকু পেরেছেন তারা আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন যে এই সেক্টরগুলোতে কাজ করা উচিত। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।



