রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঈদের ছুটিতে অনেকটাই সুনসান। অল্প কিছু দোকান খোলা থাকলেও কোথাও কোথাও পুরো বাজারই বন্ধ। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই উপস্থিতি কম। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
শান্তিনগর-মালিবাগ বাজার
রাজধানীর শান্তিনগর থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কের পাশে ফুটপাতে বসে কাঁচাবাজার। ভোরে এই বাজারে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হাজির হন ব্যবসায়ীরা। সকাল হওয়ার পর থেকে ভিড় করতে থাকেন ক্রেতারা। সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত চলে এই বেচাকেনা। বিশেষ করে শুক্রবার ছুটির দিনে এই বিক্রি আরও বেশি জমে ওঠে। তবে আজ সকাল ৯টার সময় এই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি আম ও কলার দোকান ছাড়া আর কোনো দোকান নেই। এই আম ও কলার ক্রেতার সংখ্যা দু–একজন।
ব্যবসায়ীদের হতাশা
এক যুগ ধরে সকালবেলার এই বাজারে প্রতিদিন কলা বিক্রি করেন মহসীন। আজও কলা নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় তিনি। কিন্তু আশানুরূপ ক্রেতা নেই বলে জানান এই বিক্রেতা। মহসীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন রাত ৩টার সময় নরসিংদী থেকে কলা নিয়ে এখানে আসি। ভোর থেকে বিক্রি শুরু হয়। আজও কিছু কলা নিয়ে আসছিলাম। তবে আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। মানুষ তো সব ঈদের ছুটিতে বাড়ি চলে গেছে। এরপরও ভাবছি, আরেকটু ভালো বেচাবিক্রি হবে, তা তো হলো না।’
খিলগাঁও রেলগেট মাছবাজার
ভোরের আলো ফোটার আগেই হইচই শুরু হয় রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেটের পাশে মাছের বাজারটিতে। আজ সকালে সেখানে গিয়ে দেখা, একটি দোকানও খোলা নেই। একটি চেয়ারে বসে বন্ধ দোকানগুলো পাহারা দিচ্ছেন শিরিনা আক্তার (৫০)। তিনি ১১ বছর ধরে এই মাছবাজারে প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া কাপড়ের গলিতে তিনি থাকেন। স্বামী রিকশা চালান আর তিনি এই মাছের বাজার পাহারা দেন।
ভ্যানে আম বিক্রি
একটু দূরে ভ্যানে আম বিক্রি করছিলেন মো. সুমন। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের টেকেরহাট। সকাল সাতটা থেকে আট বছর ধরে এই কাঁচাবাজারে বেচাবিক্রি করেন। তিন মাস থেকে আম বিক্রি করছেন। বেচাবিক্রি কেমন চলছে, জানতে চাইলে সুমন জানান, মোটামুটি। ক্রেতা কম থাকায় বিক্রিও কম। ঈদের ছুটি কাটিয়ে নগরবাসী আবার ঢাকায় ফিরলে তখন বিক্রি বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।



