নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগে প্রায় ২০ টন সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চালবোঝাই একটি ট্রাকসহ চালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়।
অভিযান ও আটক
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার হাঁসকুঁড়ি মৈদাম এলাকার সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে নেত্রকোনা-মদন সড়কে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আটকরা হলেন—সদর উপজেলার ছোট গাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে শামিম মিয়া (৩২) ও ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকার ছপিল উদ্দিন আকন্দের ছেলে শাহিন মিয়া (৩৪)।
তথ্য ও জব্দ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মদন উপজেলা থেকে ৬৬৭ বস্তায় প্রায় ২০ টন সরকারি চাল বারহাট্টা উপজেলার একটি রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পরে ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি সিলযুক্ত চাল জব্দ করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মদন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার। তিনি চালগুলো সরকারি বলে নিশ্চিত করেন ও তা জব্দের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ চালভর্তি ট্রাকসহ আটক দুই জনকে থানায় নিয়ে যায়।
তদন্ত ও ব্যবস্থা
এদিকে মদন উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার করার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, চালকের দাবি অনুযায়ী চালগুলো মদন খাদ্যগুদাম থেকে বারহাট্টার বাউসি তালুকদার রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল। তবে এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যেই চালগুলো পরিবহন করা হচ্ছিল।



