যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত হচ্ছে
মুদ্রায় ট্রাম্পের স্বাক্ষর: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে মুদ্রায় ইতিহাস গড়তে চলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৪ জুলাই দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে নেওয়া পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুদ্রায় ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছে।

এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, যখন ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর দেশের মুদ্রায় স্থান পাবে। এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই এ ধরনের কাজ করেননি। দীর্ঘদিন ধরে ১, ২, ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ ডলার মূল্যের মুদ্রাগুলোয় শুধুমাত্র অর্থমন্ত্রী ও কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকত।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশকে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গেছেন। তাঁর এ ঐতিহাসিক অর্জনগুলোর স্বীকৃতিস্বরূপ মুদ্রায় ট্রাম্পের স্বাক্ষর রাখার মতো সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের অধীনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধারণত তাঁর ডেমোক্রেটিক পূর্বসূরি জো বাইডেনের মহামারি-পরবর্তী ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জিডিপি ২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২২-২৪ সালের তুলনায় সামান্য কম। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড় জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন। নিউসম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'এবার মার্কিন নাগরিকেরা স্পষ্ট করে বুঝতে পারবেন, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি, ভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবায় খরচ বেশি হওয়ার জন্য কাকে দায়ী করতে হবে।' নিউসমকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আইনি ফাঁকফোকর ও সমালোচনা

রডনি মিমস কুক জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন মার্কিন ফাইন আর্টস কমিশন একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরির প্রস্তাব অনুমোদন করার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প প্রশাসন নজিরবিহীন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই স্বর্ণমুদ্রায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি থাকবে বলে জানা গেছে।

চলমান মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিদ্যমান একটি আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমালোচকেরা এটিকে স্বৈরাচারী ও রাজতান্ত্রিক শাসকের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে মনে করছেন।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের একটি প্রতীকী স্বীকৃতি মাত্র। তবে বিরোধী দল ও কিছু বিশ্লেষক এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টদের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে।