পদ্মা ব্যারাজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শীঘ্রই তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একনেকে পাস করানো হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আজ শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার গড্ডিমারীতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারাজের গেস্টহাউস মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সঙ্গে এই মতবিনিময় করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি সেখানে বলেন, ‘এটার (তিস্তা মহাপরিকল্পনা) গুরুত্ব শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নির্বাচনের আগে ওই যে জাগো বাহে (তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন) আন্দোলনে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ জাতির সামনে কমিটমেন্ট (ওয়াদা) করেছেন। এবং ইনশা–আল্লাহ ওই কমিটমেন্টের ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের এখানে আসা।’
মতবিনিময় সভায় লালমনিরহাট-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই” সংগঠনের ব্যানারে সামাজিক আন্দোলন করছি। এখন কিছু মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আন্দোলন করছে, আমরা এত দিন ধরে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন করছি, তখন তাদের চেহারা দেখা যায়নি, তারা এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনা একনেক সম্ভাবনা দেখে ক্রেডিট নিতে চায়। তারা এত দিন কোথায় ছিল, আমরা যখন তিস্তা চরে আন্দোলন করছিলাম। যা–ই হোক, সেটা তাদের ব্যাপার।’
আসাদুল হাবিব আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২–১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে আমরা করতে পারব।’
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল প্রমুখ। এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



