কুড়িগ্রামে তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙনে ৪০টি পরিবার উদ্বাস্তু, হুমকিতে ৫০টির বেশি পরিবার
কুড়িগ্রামে তিস্তা-ধরলার ভাঙনে ৪০ পরিবার উদ্বাস্তু, হুমকিতে ৫০ পরিবার

কুড়িগ্রামে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কমতে শুরু করায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) স্থাপিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ডজনখানেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

রাজারহাটে তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার

শুক্রবার সকালে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় হঠাৎ করেই নদীভাঙন শুরু হয়। সেখানে তিনজনের বাড়ির কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন অটোরিকশাচালক ও দুই কৃষক রয়েছেন। তিস্তার তীর ধসে পড়ায় বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্থাপিত জিওব্যাগ, মাটি ও কৃষিজমিও নদীতে ভেসে গেছে।

কৃষক আতাউল হক বলেন, “আমার বাড়ি থেকে নদীটি প্রায় ২০ ফুট দূরে ছিল। সকালে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। গাছপালা, কৃষিজমি ও জিওব্যাগ সবই ভেসে গেছে। আমি ইতিমধ্যে একটি বাড়ি সরিয়ে নিয়েছি, কিন্তু আরও দুটি বাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ১০টি বাড়ি এখনও হুমকির মুখে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধরলা নদীর তীরেও একই অবস্থা

ফুলবাড়ী উপজেলার চর গোরাকামন্ডল গ্রামে ধরলা নদীর ভাঙনে গত পাঁচ দিনে অন্তত চারটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। আরও প্রায় ৫০টি পরিবার ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

দিনমজুর মজনু সরকার বলেন, “নদীভাঙনের কারণে আমি পাঁচ-ছয়বার বাস্তুচ্যুত হয়েছি। এখন আবার একই ঘটনা ঘটছে। আমি কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব বুঝতে পারছি না।” তার স্ত্রী চানবানু বলেন, “বর্ষাকালে আমরা সবসময় ভয়ে থাকি। বৃষ্টি হলে আমি ঘুমাতে পারি না। সবসময় ভয় হয় যে নদী আমাদের বাড়ি নিয়ে যাবে।”

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক বছরে অনেক পরিবার ইতিমধ্যে নদীভাঙনের কারণে তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে আরও বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিডব্লিউডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান বলেন, রামহরিতে তিস্তা নদীর তীর রক্ষায় ২,০০০ জিওব্যাগ স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু ভাঙনের তীব্রতা সহ্য করতে পারেনি। গোরাকামন্ডলে আরও ২,০০০ জিওব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিটি স্থানের জন্য আরও ৬,০০০ জিওব্যাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই আরও প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।