কাঁঠালের বিরিয়ানি থেকে বার্গার: জাতীয় ফল মেলায় নানা আয়োজন
কাঁঠালের বিরিয়ানি থেকে বার্গার: জাতীয় ফল মেলায় নানা আয়োজন

নীল-সাদা বেলুনে ছাওয়া ফটক গলে মেলায় পা রাখতেই চোখে পড়ে পানিতে ভাসমান পদ্মফুলের আদলে বানানো ফলের প্রদর্শনী মঞ্চ। নিচের সারিতে বৃত্তাকারে সাজানো হয়েছে কাঁঠাল, ড্রাগন ফল, ডেউয়া, অগ্নিশ্বর কলা, কামরাঙা, সফেদা, কতবেল, বিলাতি গাব, গোলপাতার ফল, জাম্বুরা, চাপালিশ, তাল, নারকেল ও বেলের মতো ফল। ওপরের সারি সাজানো হয়েছে আনারস দিয়ে। পানিতে ভাসছে ফলের ডালা নিয়ে পদ্মফুল, যার একেক পাঁপড়িতে একেক রকমের ফল। ফুলের কেন্দ্রে জায়গা পেয়েছে লেবু, তাল, ড্রাগন আর কাঁঠাল। দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন, ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং শিশুদের বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।

আমের সম্ভার

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে দেশি-বিদেশি হরেক রকম ফলের সংগ্রহ। এক আমেরই আছে ৫৪ জাতের সংগ্রহ। দেশি আমের মধ্যে রয়েছে আম্রপালি, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, ল্যাংড়া, ফজলি, নাগ ফজলি, সুরমা ফজলি, গোপালভোগ, জাদুভোগ, লক্ষ্মণভোগ, মোহনভোগ, সীতাভোগ, মায়াভোগ, কল্যাণভোগ, বঙ্গভোগ, আশ্বিনা, ঝিনুক আশ্বিনা, গুটি আম, জর্দাগুটি, ভাদুরীগুটি, সেলেগুটি, কালীগুটি, দারিকা, টিক্কাফরাস, দুধসর, ডালভাঙা, আরাজাল, পোল্লাদাগি, রাঙ্গুরাই, গৌরমতী, বাবলা, কোহিতুর, মল্লিকা, ইলামতি, বারি ৪, বারি ৮, বারি ১৩, বারি ১৪। বিদেশি রঙিন ও বৈচিত্র্যময় আমের মধ্যে আছে আমেরিকান রেড পালমার, জাপানের মিয়াজাকি, থাই কাটিমন, তাইওয়ান গ্রিন, মহাচানক, লেডিজেন, আরটুইটু, পুষা উর্নিমা, আলফানসো, কিউইজাই, ব্যানানা ম্যাংগো, ব্রুনাই কিং, নামডকমাই, মুর্শিদাবাদ, হানি ডিউ, কিং অব চাকাপাত ও চিয়ারং মাই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ফল

অন্যান্য ফলের মধ্যে আছে গোলপাতার ফল, সৌদি খেজুর, খুদিজাম, পেঁপে, লিচু, সফেদা, কাগজি লেবু, তরমুজ, করমচা, পেয়ারা, কাউফল, চাপালিশ, সিলেটি জারালেবু, সাতকরা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, আলুবোখারা, রামবুটান, লটকন, জামরুল, গাব, তৈকর, পার্সিমন শরিফা, আমলকী, লুকলুকি, করোসল, কোকো, বেল, আঙুর ও ড্রাগন ফল। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) স্টলের সামনে বানানো বাংলাদেশের মানচিত্রে কোন অঞ্চলে কী কী ফল জন্মে তার উপস্থাপনা রয়েছে। টেবিলে মিষ্টি, তেঁতুল, আঙুর, কতবেল, টিস্যু কালচারের আনারসের চারা এবং থোকা থোকা সৌদি খেজুর-ডিগলেট নূর, সুক্কারি, আজওয়া, বারহি। সঙ্গে আছে খেজুর গাছের ছবি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাশে উপস্থাপন করা হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের ফল—কেওড়া, সুন্দরী, পশুর, বাইন, কানাইডিঙ্গা, হাড়গোজা ইত্যাদি। ভেতরে দেশি-বিদেশি নানা রকম আমের সঙ্গে পাবেন পাঁচ রকমের লিচু—বোম্বাই, বেদানা, চায়না থ্রি, সীতাপাটি ও কাঁঠালি লিচু। আছে বিশাল আকৃতির মাকাল ফল, সবুজ আপেল, অগ্নিশ্বর কলা, ঢাউস আকৃতির দেশি বেলসহ আরও অনেক ফল। আছে সৌরশক্তিচালিত সেচযন্ত্রের প্রদর্শনীও। বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে শোভা পাচ্ছে ফল কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ ও বিক্রি করা যায় তার ধারণা।

কাঁঠাল দিয়ে কত কিছু

জাতীয় ফল কাঁঠালেরই আছে অনেক রকম প্রক্রিয়াজাত খাবার—কাঁঠালের বিরিয়ানি, বার্গার, রুটি, নকশি পিঠা, জালি কাবাব, কাঠি কাবাব, ললিপপ, চিপস, শিঙাড়া, সমুচা, পাকোড়া, সাশলিক, পাটিসাপটা পিঠা, কাটলেট, কাপ কেক ও পেস্ট্রি। কাঁঠালের বীজের বরফি, বীজের চিপস, কাঁঠালের হালুয়া, পুডিং, আচারসহ আরও অনেক কিছু। কয়েকটা পদ চেখে দেখার সুযোগও আছে। ১০ টাকায় একটা জালি কাবাবের স্বাদ নেওয়া যায়। আছে আমের পুডিং, ডাবের পুডিং, তরমুজের পুডিং, তালের বড়া, তালের পিঠা, তালের পায়েস, আমের আমসত্ত্ব, ম্যাঙ্গো ক্যান্ডি, আমের ঝুড়ি পিঠাসহ কত কী!

হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের স্টল প্রদর্শন করছে কীভাবে দেশের বাইরে বিভিন্ন ধরনের ফল রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ফল—প্রায় আধা কেজি ওজনের বিনা সফেদা-১, বিনা লেবু ১ ও ২, আমড়া, গাব, জাম, অ্যাভোকাডো। কাঁঠালের মধ্যে আছে লাল, গোলাপি কোষের কাঁঠাল ও আঠাবিহীন কাঁঠাল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) স্টলে দেখা পাবেন বারির উদ্ভাবিত ফল এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য—কলা ও কাঁঠালের চিপস, রেডি টু কুক কাঁচা কাঁঠালের স্লাইস, কাঁঠালের ভেজিটেবল মিট, আম, কাঁঠাল, বরই, তেঁতুল ও আলু বোখারার আচার।

প্রসপারেটি স্টলে নারী উদ্যোক্তা আসমা সরকার কাঁঠালের শিঙাড়া ভাজছেন। কাঁঠাল দিয়েই তৈরি হচ্ছে সমুচা, পাকোড়া, চিজবল, কাটলেট, চাটনি ও আচার। চাটনি ও আচার ১২০ থেকে ২২০ টাকা, শিঙাড়া ও সমুচা প্রতিটি ২০ টাকা, পাকোড়া তিনটি ২০ টাকা, চিজবল ৩০ টাকা ও কাটলেট ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফল কেনার সুযোগ

মেলায় ফল কেনারও সুযোগ রয়েছে। সারি সারি দোকানের সিংহভাগই আমের দখলে। প্রতি কেজি আম্রপালি ৮০-১২০ টাকা, ল্যাংড়া ৬০-১০০ টাকা, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ৯০-১১০ টাকা, তোতাপুরি ১১০-১৩০ টাকা, বারি ৪ আম ৮০-২০০ টাকা, কোহিতুর ৭০ টাকা। হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, লক্ষ্মণভোগ, মল্লিকা ও ফজলি প্রতি কেজি ৮০ টাকা। কাটিমন ও নাগ ফজলি ৯০ টাকা, ব্রুনাই কিং ১৫০ টাকা, কিং অব চাকাপাত ২৫০ টাকা, আমেরিকান রেড পালমার ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যান্য ফলের মধ্যে কাঁঠাল ৫০০ টাকার ভেতরে, ১০০ বোম্বাই লিচু ৬০০ টাকা, কাঁঠালি লিচু ৯০০ টাকা, বেদানা লিচু ১১০০ টাকা, চায়না থ্রি লিচু ১৪০০ টাকা। ড্রাগন ফ্রুট ৬৫-১৫০ টাকা কেজি, জামরুল ১৫০-২৩০ টাকা, করমচা ১৫০ টাকা, জাম ২৫০-৩০০ টাকা প্রতি কেজি। নরসিংদীর সাগর কলা ২৪০ টাকা প্রতি ডজন। মাশরুমের স্টলে ২৫০ গ্রাম মাশরুম ৩৫০ টাকা, ৫ কেজি ওজনের মাশরুমের সার ১৫০ টাকা, ৫ পিসের মাশরুমের প্যাকেট ১০০ টাকা ও মাশরুমের চিপস ৩০ টাকা।