চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পরিত্যক্ত পাহাড়ি জমিতে ৩২ জাতের আমগাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন ফরিদুল আলম (৪৮)। চলতি বছর তিনি প্রায় দেড় হাজার কেজি আম সংগ্রহ করেছেন।
পরিত্যক্ত জমিতে শুরু
ফরিদুল আলম লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের মিরিখীল মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী তিনি। ২০২৩ সালের জুনে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ১ একর পাহাড়ি ঢালু জমিতে ৩২ জাতের প্রায় ৩০০ আমের চারা রোপণ করেন।
গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, বাগানটিতে সারি সারি আমগাছ। ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের আম। আমের ভারে গাছের ডাল নুইয়ে পড়ছে। কোনোটি লালচে, কোনোটি হলুদ। আকারেও রয়েছে বৈচিত্র্য।
বহু জাতের আম
বাগানে বারি আম ৪, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, গোপালভোগ, কাটিমন, মিয়াজাকি, বারি আম ১১, রাঙ্গুয়াই, আশ্বিনা, মল্লিকা, তোতাপুরি, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, রেড পালমার, ব্রুনাই কিং, রেড আইভরি ইত্যাদি জাতের আমগাছ রয়েছে। সারিবদ্ধভাবে প্রায় ২০ ফুট দূরত্বে গাছগুলো রোপণ। বর্তমান বয়স ৩ বছর, উচ্চতা ৪ থেকে ৬ ফুট। প্রায় প্রতিটি গাছে আম ধরেছে। একেকটি আমের ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি।
ফরিদুলের পরিকল্পনা
ফরিদুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘শখের বশে দেশি-বিদেশি জাতের একটি আমবাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের সহযোগিতায় গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করি। গত বছর কিছু গাছে আম ধরেছিল। এ বছর প্রায় দেড় টন আম সংগ্রহ করেছি। এসব আম স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের উপহার দিয়েছি। আশা করছি, আগামী বছর ফলন কয়েক গুণ বেশি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে ঘুরতে এসে প্রথমবারের মতো ভিন্ন জাতের আম দেখে মুগ্ধ হন। বাড়ির আশপাশে এসব গাছ লাগাতে উৎসাহিত হন। আমি তাঁদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি। ভবিষ্যতে এই বাগান আরও সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
কৃষি কার্যালয়ের সহায়তা
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আমবাগানে সঙ্গী ফসল হিসেবে অর্থকরী ফসল আবাদের সুযোগ রয়েছে। এতে কৃষকেরাও লাভবান হবেন। এ কাজে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলায় যেসব উদ্যোক্তা নতুন করে বাগান করতে ইচ্ছুক, তাঁদের কারিগরি পরামর্শ ও সেবা দিতে উপজেলা কৃষি কার্যালয় সব সময় প্রস্তুত।



