শ্রীপুরে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক কৃষি ও গৃহস্থালি ক্ষতি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে ব্যাপক কৃষি ও গৃহস্থালি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ তীব্র ঝড়ে প্রায় এক হাজার কৃষকের ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
ধান উৎপাদনে বিরাট ধাক্কা
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত ধানের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৮০০ টন, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা, বেইলদিয়া ও নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, যা সরেজমিনে দেখা গেছে।
গৃহহীন ও আহতদের দুর্দশা
ঝড়ে প্রায় ৪০০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ির চাল উড়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন আহতও হয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
কৃষি বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা জানান, ঝড়ের পর থেকেই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, "তিনটি গ্রামের প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার উৎপাদন প্রায় এক হাজার ৮০০ টন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।"
প্রশাসনের তৎপরতা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, "তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঢেউটিনসহ ঘর নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, তিনটি গ্রামের প্রায় প্রতিটি কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আবেদন জানিয়েছেন। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এগিয়ে আসছে বলে খবর পাওয়া গেছে।



