বাকৃবিতে স্বয়ংক্রিয় আলু বাছাই যন্ত্র নিয়ে কর্মশালা: কৃষিতে বিপ্লবের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) স্বয়ংক্রিয় আলু বাছাইকরণ যন্ত্র নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বিএইউআরআইসি)।
যন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা
কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি ঘণ্টায় ৫০০ কেজির বেশি আলু বাছাই করতে সক্ষম এবং প্রতি কেজি আলু বাছাইয়ে খরচ হয় মাত্র ১২ পয়সা। এটি সনাতন পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৭০ গুণ বেশি সাশ্রয়ী। যন্ত্রটির তৃতীয় সংস্করণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিসিডি ক্যামেরা ব্যবহার করে সেকেন্ডে ৫৩৯টি ছবি বিশ্লেষণ করা সম্ভব, ফলে গ্রেডিংয়ের গতি ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষকদের বক্তব্য
প্রধান গবেষক ও কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে আলু বাছাইয়ের কাজ সনাতন পদ্ধতিতে করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমনির্ভর। আমাদের উদ্ভাবিত অটোমেটেড পটেটো গ্রেডার এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে যন্ত্রটি দেশি উপকরণ ব্যবহার করে দেশেই তৈরি করা হয়েছে এবং গবেষণা পর্যায়ে পরীক্ষণ শেষ হয়েছে, শীঘ্রই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ শুরু হবে।
আলু রপ্তানির সম্ভাবনা
কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক রোস্তম আলী বলেন, ‘বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে আলুর উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে চাহিদা ৯০ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২৫ লাখ মেট্রিক টন আলু রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে আলুর সংরক্ষণকালীন পচন কমিয়ে রপ্তানিযোগ্য মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া কর্মশালায় বলেন, ‘এই যন্ত্রটি একটি রিয়েলটাইম সর্টিং বা গ্রেডিং মেশিন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলুর শারীরিক গঠন পর্যবেক্ষণ করে আকারের ভিত্তিতে বাছাই করবে। উন্নত বিশ্বে চিপস বা অন্যান্য পণ্য তৈরিতে মানসম্মত আলু ব্যবহৃত হয়, তাই এই প্রযুক্তি আলু রপ্তানির সুযোগ বাড়াবে।’
কর্মশালার অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
অনুষ্ঠানে কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএইউআরআইসির সভাপতি খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন আব্দুল মজিদ।
এই কর্মশালা কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আলু উৎপাদন ও রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



