বাসের বাক্সে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু: সুপারভাইজার ও মালিকের ১০ হাজার টাকা জরিমানা
বাসে ৫৫ ছাগল মৃত্যু: সুপারভাইজার-মালিক জরিমানা

বাসের বাক্সে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু: সুপারভাইজার ও মালিকের ১০ হাজার টাকা জরিমানা

লালমনিরহাট থেকে লক্ষ্মীপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসের বাক্সে গাদাগাদি করে আনা ৫৫টি ছাগল দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় ছাগল মালিক ও বাসের সুপারভাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট থেকে শুক্রবার রাতে অনিন্দ্য পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসের বাক্সের ভেতর গাদাগাদি করে ছাগল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফারুক ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুরে নিয়ে আসেন। একইসঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর আটটি ছাগলও আনা হয়। মোট ৫৫টি ছাগল বাসের বাক্সে অত্যন্ত সংকীর্ণ অবস্থায় রাখা ছিল।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ফারুক বাস চালক ও সুপারভাইজারের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং তিনি লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে ইউএনওর কাছে পাঠায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা

ছাগলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সুপারভাইজার আবুল হাশেম ও ছাগল মালিক মোহাম্মদ ফারুককে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানাপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আবুল হাশেম লালমনিরহাট জেলার সাপটানা এলাকার মৃত খায়ের উল্যার ছেলে এবং ছাগল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফারুক লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের মো. খোকনের ছেলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, "লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে আমার বাবা ছাগলগুলো কিনে বাসে করে লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়েছেন। প্রায় দুই বছর ধরেই এভাবে বাসের বাক্সে করে আমরা ছাগল নিয়ে আসছি। প্রতি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নেয় বাস কর্তৃপক্ষ। কখনো ছাগল মারা যায়নি। কিন্তু এবার বাস চালক ও সুপারভাইজারের অবহেলার কারণে ছাগলগুলো মারা গেছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।"

বাসের সুপারভাইজার আবুল হাসেম বলেন, "৫৫টি ছাগল লালমনিরহাট থেকে এনেছি। এর মধ্যে ফারুকের ৪৭টি এবং নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর আটটি ছাগল ছিল। পথে ছাগলগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু নোয়াখালীর চৌরাস্তায় এসে আটটি ছাগল নামানোর সময় দেখি সবগুলো মরে পড়ে আছে।"

প্রাণিসম্পদ বিভাগের বক্তব্য

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা বলেন, পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে গরমে দমবন্ধ হয়ে সবগুলো ছাগল মারা গেছে। ছাগলগুলোর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। মৃত ছাগলগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা প্রাণী পরিবহনের নিরাপত্তা ও মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে প্রাণী অধিকার রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।