চাঁপাইনবাবগঞ্জে অসময়ে বৃষ্টিতে আমচাষিদের উৎকণ্ঠা, মুকুলে ছত্রাকের ঝুঁকি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টিতে আমচাষিদের উৎকণ্ঠা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অসময়ে বৃষ্টিতে আমচাষিদের উৎকণ্ঠা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। মুকুলে ভরা আমবাগানগুলোর জন্য এই বৃষ্টি উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট, বিনোদপুর ও মোবারকপুর ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হওয়ায় বাগানজুড়ে চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

মুকুলের সময়ে বৃষ্টির প্রভাব

বর্তমানে জেলার অধিকাংশ আমগাছে মুকুল ফুটে আছে। এমন সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ফলনের সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষিরা বলছেন, মুকুলের সময় আবহাওয়ার সামান্য বিরূপ প্রভাবও উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অসময়ের বৃষ্টিতে আমের মুকুলে ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে ও বাগানের পরিচর্যা নিশ্চিত করলে সম্ভাব্য ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতামত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব আহসান হাবিব বলেন, "আমচাষ পুরোপুরি আবহাওয়া নির্ভর। বৃষ্টির পর রোদ উঠলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমে যাবে বলে আমরা আশা করছি।" অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, "যেসব গাছে সদ্য মুকুল এসেছে সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে যেসব মুকুলে ইতোমধ্যে গুটি ধরেছে, তাদের জন্য এ বৃষ্টি কিছুটা উপকারও বয়ে আনতে পারে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া জানান, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বৃষ্টিতে ধান, গম ও পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলের উপকার হতে পারে, যা আমের ক্ষতির সম্ভাবনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আম উৎপাদনের পরিসংখ্যান

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি আমগাছ রয়েছে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ টন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আবহাওয়ার অনুকূল অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।