খুলনা বিভাগে এবার কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি থাকায় দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকার আশা করা হচ্ছে। খুলনা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের (ডিওএলএস) তথ্য অনুযায়ী, এবার কোরবানির জন্য ১০ লাখ ৭৯ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে, বিপরীতে মজুত রয়েছে ১৪ লাখ ৪৭ হাজার পশু। অর্থাৎ ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি পশু উদ্বৃত্ত থাকায় চাহিদার চেয়ে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি পশু পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় পশু দিয়ে চাহিদা পূরণ
ডিওএলএসের পরিচালক ড. গোলাম হায়দার জানান, গত বছর বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ২৯ হাজার। এবার তা বেড়ে ১০ লাখ ৭৯ হাজার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পশু দিয়ে কোরবানির শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। যেহেতু চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি, তাই দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’ ঈদুল আজহার আগেই বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশু আনা হবে, ফলে অন্য জেলা থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না।
পশুর প্রকারভেদ
এ বছর কোরবানির পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ১ লাখ ৩০ হাজার ৪২৭টি, বলদ ৩২ হাজার ২৭টি, বকনা ও গাই ৮২ হাজার ৩০২টি, মহিষ ৪ হাজার ৮৯টি, ছাগল ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০টি, ভেড়া ৫১ হাজার ১৭৩টি এবং অন্যান্য ২১৬টি।
খামারি ও কৃষকদের প্রতিক্রিয়া
রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামের খামার মালিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক দিদারুল আলম বলেন, প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে সাতটি দেশি গরু পালন করছি। পশুগুলোকে সুস্থ ও ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছি। লিয়াকত হোসেন নামে আরেক কৃষক তার পারিবারিক পশু পালনের ঐতিহ্য বজায় রেখে টিপনা গ্রামে তার ভাইদের সঙ্গে আট কাঠা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পশু পালন শুরু করেন। তাদের খামারে এখন গরুর পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ছাগলও রয়েছে।
হাটের প্রস্তুতি ও টেন্ডার প্রক্রিয়া
খুলনা বিভাগের বেশকিছু জেলায় ইতিমধ্যে গবাদি পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা বলছেন, আরও এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হবে। তবে খুলনা মহানগরীর জোড়াগেট পশুর হাট পরিচালনার জন্য তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করেও কোনো সাড়া পায়নি খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। সর্বশেষ গত সোমবার চতুর্থবারের মতো টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কেসিসির বাজার শাখা কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাটের দর ওঠানো হয়েছে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিনবার আহ্বান করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। যদি কোনো ঠিকাদার অংশ না নেয় তাহলে হাট পরিচালনার দায়িত্ব নেবে সিটি করপোরেশন।’
কেসিসির পরিকল্পনা
গত বছর কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করে কেসিসি ২ কোটি ৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছিল। এবারও একইভাবে হাট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হাটে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। পশু ও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিম রাখা হবে। প্রতারণা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর টহল থাকবে এবং নকল টাকা প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ থাকবে। ইতিমধ্যে কেসিসি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা খাতুন বুশরাকে আহ্বায়ক ও বাজার শাখার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদারকে সদস্য সচিব করে ৩২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।



