সরকারের কৃষকবান্ধব সিদ্ধান্তে বোরো ধানের বাম্পার ফলন: প্রতিমন্ত্রী
সরকারের কৃষকবান্ধব সিদ্ধান্তে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকারের কৃষকবান্ধব ও সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ১২টায় যশোর খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমের ধান সংগ্রহের উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল, যা বাংলাদেশকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত এবং জনগণের সহযোগিতায় সেই পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার প্রয়োজনে গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখেও কৃষকের সেচের জ্বালানি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একইভাবে, শহরের বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও কৃষকের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়। নানা সংকটের মধ্যেও কৃষকের ধানখেতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বোরো ধানের গুরুত্ব ও সরকারের ভূমিকা

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের কৃষকবান্ধব সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে সারা দেশে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো ধান দেশের মূল ফসল, যা ভালো হলে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার কৃষক কার্ড প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি মূল্যে সব ধরনের কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন এবং স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া সরকার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষিক্ষেত্রে অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান কৃষিক্ষেত্রের অগ্রযাত্রার সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে উন্নতমানের সার, বীজ ও যন্ত্রপাতি এনে দেশের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, যা দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতার সেই সব কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে কৃষিখাতের অগ্রযাত্রা ধরে রাখছেন।

ধান সংগ্রহের মূল্য ও সতর্কতা

সরকারের বেঁধে দেওয়া ধানের দাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি ন্যায্যমূল্য। সাধারণত সরকার এ ধরনের দাম নির্ধারণ করে না। এই মূল্যের ফলে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম পাবে, অন্যদিকে খাদ্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারবে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ধান সংগ্রহের সময় কোনো অসাধু কর্মকর্তা কৃষকদের ওজনে ঠকালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক প্রমুখ।