গাজীপুরের শ্রীপুরে মাত্র ১৫ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে তিনটি গ্রামের বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের মাঠ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই ঝড়ের তাণ্ডব চলে। এতে এলাকার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও পরিমাণ
উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও ধামলই গ্রামে ঝড়ে গাছের ডালপালা ভেঙে উপড়ে পড়েছে। অনেক ঘরের চাল উড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ওই তিন গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যাতে বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে ক্ষতির চিত্র
দুপুরে সরেজমিন তিনটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেকের বসতবাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে। বহু কাঁঠাল গাছ ভেঙে মৌসুমি ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং শাকসবজির ক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে। বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের শতাধিক পয়েন্টে মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, মাত্র ১৫ মিনিটের ঝড়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে পড়েছে সব এলাকায়। দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের আব্দুল কাদির জানান, তার ঘরের চাল উড়ে গেছে। মুরগির খামারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার মুরগির খামারের চাল উড়ে গেছে এবং তিনি প্রায় নিঃস্ব।
হয়দেবপুর গ্রামের শহিদুল্লাহ খান বলেন, কমপক্ষে শতাধিক পয়েন্টে বৈদ্যুতিক সংযোগ লাইনের মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্রামে বিদ্যুৎহীন থাকবে।
বিদ্যুৎ ও কৃষি বিভাগের প্রতিক্রিয়া
কাওরাইদ পল্লী বিদুৎ অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আনিছুর রহমান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন পয়েন্টে মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য তিনটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে এবং গাছপালা সরাতে অনেক সময় লাগবে। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, স্থানীয় কৃষকদের বোরোধান ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে মাঠকর্মীদের গ্রামে পাঠানো হয়েছে।



