দেশের ছয়টি জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সবাই কৃষক ও শ্রমিক, যারা মাঠে বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো
বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকালের মধ্যে নওগাঁ, জামালপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নাটোরে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁয় তিনজন, জামালপুরে একজন, লালমনিরহাটে একজন, কুড়িগ্রামে একজন, ময়মনসিংহে একজন এবং নাটোরে একজনের মৃত্যু হয়।
জামালপুরের ঘটনা
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহেল মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকার শুকুর মাহমুদের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, বিকাল ৪টার দিকে নিজ খেতে ভুট্টা তুলছিলেন সোহেল। হঠাৎ বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
নওগাঁয় তিনজন নিহত
নওগাঁর পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে জেলার নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নিয়ামতপুর উপজেলার রামনগর এলাকার অনুকূল চন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জুয়েল এবং মহাদেবপুর উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র বর্মণ। স্থানীয়রা জানান, নিয়ামতপুরের রামনগর এলাকায় মাঠে ধান কাটছিলেন অনুকূল চন্দ্র। একই সময়ে পাশের খাসের হাট উঠাপাড়া গ্রামে ধান কাটার কাজ করছিলেন শ্রমিক জুয়েল। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মহাদেবপুরের কুড়াপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান দিলীপ চন্দ্র বর্মণ। এসব ঘটনায় আরও দুজন মারাত্মক জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটে কৃষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ভুট্টাখেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মো. ইউসুফ আলী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ইউসুফ ওই এলাকার বাসিন্দা এবং তিন সন্তানের জনক। বুধবার দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ ভোটমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতে কাজ করছিলেন ইউসুফ। বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।
ময়মনসিংহে ধান কাটতে গিয়ে মৃত্যু
নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে। বিকাল ৩টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে তিনি ছিটকে পড়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বজ্রপাতে মৃত্যু
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নিজ জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওবাইদুল উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে। দুপুরে জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



