পদ্মা ব্যারেজের সম্ভাব্যতা জরিপ প্রায় শেষ, শিগগিরই সিদ্ধান্ত
পদ্মা ব্যারেজের সম্ভাব্যতা জরিপ প্রায় শেষ

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা জরিপের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

একনেক সভায় উপস্থাপন হবে প্রকল্প

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি শিগগিরই একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এদিন সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খাল খনন, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি আরও বলেন, সভায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সমস্যা সমাধানের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। কৃষকেরা যাতে শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচের সুবিধা পায়, সেজন্য সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পদ্মা ব্যারেজের গুরুত্ব

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এর স্টাডি রিপোর্ট, কারিগরি দিক ও সমীক্ষা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। একনেক সভার দিন প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। এর আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী কাজ সম্পন্ন করা দরকার, সে বিষয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ জনগণের সুবিধার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছিল নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এই প্রকল্পের কথা বলেছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপকৃত হবে উত্তরবঙ্গের ২৪ জেলা

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৪টি জেলার জনসাধারণ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু সেচ নয়, সারা বাংলাদেশের পানির প্রবাহ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, মৎস্য চাষ এবং কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে সব দিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট দূর করতে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্প। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানির অভাব দেখা দেয় এবং এর ফলে মরুকরণ ও লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা রোধ করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংসা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পানি খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সরবরাহ করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যয় ও বাস্তবায়ন

প্রস্তাবিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে এগোয়নি। এর ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা

এদিন পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ছাড়াও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। আরও বেশি অধ্যয়ন প্রয়োজন। কারিগরি দিক ও সমীক্ষা সবকিছু বিবেচনা করে কীভাবে ওই এলাকার মানুষ ও দেশবাসীকে সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

খাল খনন কর্মসূচি

এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সারাদেশের জেলাগুলোতে তিনি খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে।

পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। মন্ত্রী ও এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বর্ষাকাল প্রায় চলে আসায় মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্ষা শেষে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির দিকে পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।