কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) সার কারখানায় উৎপাদনে ফিরলেও এখনও বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। এ তিন সার কারখানায় অবস্থিত চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাংগাদিয়ায়। এর মধ্যে কাফকো এবং সিইউএফএল বন্ধ হয় গ্যাস সংকটের কারণে। অপরদিকে ডিএপিএফসিএল বন্ধ হয় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংকটে।
কাফকো সূত্র জানিয়েছে, গত ১ মে থেকে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে (কাফকো)। ৩ মে থেকে কাফকোতে সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হচ্ছে। এর আগে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে কাফকো’র উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন ডিভিশন) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ১ মে থেকে কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। কারখানাটি বর্তমানে উৎপাদনে আছে। এ কারখানায় দৈনিক ৩০ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে, কাফকো চালু হলেও এখনও বন্ধ রয়েছে আরও দুই সার কারখানা। এগুলো হলো-চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। এর মধ্যে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ সিইউএফএল বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস পাওয়ার পরপরই উৎপাদনে যাওয়া যাবে। কবে নাগাদ এ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনও নির্দেশনা আসেনি।’
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১৮ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে এ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মূলত কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে।’
এ কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া পেয়ে থাকি। বর্তমানে একটি কারখানা হলেও আরেকটি বন্ধ রয়েছে। চালু সিইউএফএল কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সরবরাহ না করা পর্যন্ত ডিএপিএফসিএল বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।’
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন ডিভিশন) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, ‘কাফকোতে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাসের প্রয়োজন হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কাফকোতে কবে গ্যাস সরবরাহ করা হবে এ বিষয়ে এখনো কোন শিডিউল পাওয়া যায়নি।’



