গামছা মাথায় এমপির ধান কাটা, চকনজু গ্রামে রাইস গার্ডেন উদ্বোধন
গামছা মাথায় এমপির ধান কাটা, চকনজু গ্রামে রাইস গার্ডেন

ময়মনসিংহ সদরের চকনজু গ্রাম এখন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ৬১টি জাতের ধানের গবেষণাকেন্দ্র ‘রাইস গার্ডেন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ময়মনসিংহ স্যাটেলাইট স্টেশনের উদ্যোগে উন্নত নানা জাতের ধান গবেষণা প্রকল্পের সফলতায় কৃষকদের মাঝে আশার আলো দেখা দিয়েছে। সোমবার এ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ মাথায় গামছা বেঁধে কৃষকের আদলে ধান কেটে সবাইকে চমকে দেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহ ও আনন্দে ভাসিয়ে দেয়।

প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে চকনজু

ভাবখালী ইউনিয়নের চকনজু গ্রামটি এখন প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্র হিসেবে কৃষকদের মধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গ্রামটিকে প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। প্রকল্পের আওতায় গ্রামের ১৩৭ কৃষকের ৪৫ একর জমিতে চলতি বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। গবেষণা প্রকল্পের একই মাঠে ৬১টি ধানের জাত নিয়ে স্থাপিত বিশেষ ‘রাইস গার্ডেন’, প্রায়োগিক গবেষণা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান রোপণ এবং স্থানভিত্তিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত গবেষণা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়

অনুষ্ঠানে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণার উন্নয়ন (এলএসটিডি) বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব। কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে আপনাদের পাশে আছি, থাকবো। দ্রুততম সময়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষক কার্ড কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণা কার্যক্রমের বিস্তারিত

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক আফছানা আনছারী বলেন, ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দূরে হওয়ার কারণে ময়মনসিংহের কৃষকরা নতুন জাতগুলো একটু দেরিতে পায় কিংবা অনেক সময় পায় না। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ময়মনসিংহে আমরা একটা স্যাটেলাইট স্টেশন তৈরি করছি। ইতোমধ্যে অস্থায়ী ভিত্তিতে এটি হয়ে গেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি গ্রামকে পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর করে ফেলার কাজ চলমান। তিনি আরও বলেন, আমরা চকনজু গ্রামকে প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলছি। এই গ্রামের প্রত্যেকটি কৃষককে আমরা আর্থিক সহায়তা, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা দিচ্ছি। যেহেতু শ্রমিক স্বল্পতা রয়েছে, সে কারণে এ গ্রামের বেশিরভাগ জমি চাষ করা হয়েছে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ ধান গবেষণা প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ৬১টি জাতের ধান আবাদে চকনজু গ্রামের রাইস গার্ডেন ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে।