ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ জোরদারের সরকারি পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে একটি স্বাগত উদ্যোগ। উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক একীকরণকে বাড়িয়ে তোলে, পাশাপাশি এই রুটে প্রতিদিন যাতায়াতকারী নাগরিকদের বোঝা লাঘব করে।
অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা
সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি ও সুযোগের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশও বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিঃসন্দেহে উন্নতি লাভ করেছে। তবে এ প্রসঙ্গে সতর্ক থাকা জরুরি।
অতীতের শিক্ষা
বাংলাদেশে মেগা প্রকল্পের ইতিহাস সতর্কতার দাবি রাখে। প্রায়শই প্রকল্পগুলি জাঁকজমকের সাথে চালু করা হয়েছে, কিন্তু পরে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি বা সন্দেহজনক উপযোগিতায় জর্জরিত হয়েছে। এর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে কিন্তু ন্যায্য রিটার্ন পাওয়া যায়নি, দেশ ঋণের বোঝা বহন করেছে অথচ প্রতিশ্রুত সুবিধা অধরাই থেকে গেছে।
ভবিষ্যতের পথ
এখন থেকে এটি ভিন্ন হতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন অবশ্যই কঠোর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, স্বচ্ছ ব্যয় মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী মূল্যের স্পষ্ট প্রক্ষেপণ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। প্রতিটি টাকা ব্যয়ের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে হবে রাজনৈতিক প্রতীকবাদ নয়, বরং জনগণের বাস্তব সুবিধার মাধ্যমে। সড়ক ও রেলপথ এবং অন্য যেকোনো প্রকল্প তাই সম্প্রদায়ের সেবা করবে, অহংকার নয়।
শৃঙ্খলা ও তদারকি
ঢাকা-সিলেট উদ্যোগগুলি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক এবং এমনকি প্রয়োজনীয়, কিন্তু এই রুটে যা কিছু নির্মিত হবে তার সাফল্য নির্ভর করবে শৃঙ্খলার উপর। ব্যয় অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং স্বাধীন তদারকির মাধ্যমে দক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, সরকারকে প্রতিপত্তির জন্য নয়, বরং ব্যবহারিকতার জন্য প্রকল্প গ্রহণের প্রলোভন প্রতিরোধ করতে হবে।
উপসংহার
আমরা আরেকটি চক্র বহন করতে পারি না যেখানে বড় ঘোষণার পর হতাশাজনক ফলাফল আসে। অবকাঠামোকে দৃশ্যপট হিসেবে ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিকভাবে করা হলে এগুলি মূল্য-চালিত উন্নয়নের মডেল হবে। ভুলভাবে করলে এগুলি সতর্কতামূলক গল্পের তালিকায় যুক্ত হবে। আমাদের এমন অবকাঠামো প্রয়োজন যা কেবল স্বল্পমেয়াদে নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সুফল বয়ে আনবে।



