হবিগঞ্জে বৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি, কাটা বাকি ৬৯ শতাংশ
হবিগঞ্জে বৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি, কাটা বাকি ৬৯%

হবিগঞ্জে এখনও ৬৯ শতাংশ বোরো ধান কাটা বাকি থাকতেই টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি। অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। রোদের অভাবে খোলা মাঠ ও সড়কে স্তূপ করে রাখা ধানে গজাচ্ছে চারা, পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ—যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের।

বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা

শনিবার সকাল থেকে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমি। এতে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ১৯ হাজার ৬৩০ জন কৃষক।

মাত্র ৩১ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব

কৃষি বিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত হাওর এলাকায় ২৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ১০ হাজার ৮২৯ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। অর্থাৎ মোট আবাদি জমির মাত্র ৩১ শতাংশ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষকরা, এখনও ৬৯ শতাংশ ধান কাটা বাকি রয়েছে। তবে যেসব ধান আগেই কেটে রাখা হয়েছিল, সেগুলোও রোদের অভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। বেশিরভাগ ভেজা ধানে চারা গজাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের দুশ্চিন্তা ও ক্ষতির চিত্র

বেরির হাওরের কৃষক ইসমত উল্লাহ বলেন, 'বর্গা নিয়ে ১২ কিয়ার জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করবো, আর সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে—এমন দুশ্চিন্তায় দিন পার করছি। পানিতে পচে যাচ্ছে, ওপরে তুললে চারা গজাচ্ছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই চিত্র গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরেও। ১০ একর জমিতে বোরো আবাদ করা কৃষক আজিদ মিয়া বলেন, 'প্রথমে শিলাবৃষ্টিতে ধান ঝরে যায়। পরে ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় জমি। কিছু ধান কেটে এনে খলায় রাখলেও তাতে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোদ না থাকায় কোনও ধান শুকাতে পারতেছি না।'

একই কষ্টের কথা জানালেন নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, 'পাঁচ কিয়ার জমিতে ধান আবাদ করেছি। এর মধ্যে এক কিয়ার ধান কেটে খলায় রাখলেও রোদের অভাবে তাতে চারা গজিয়ে গেছে, পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এবারের মতো লোকসানে আর পড়ি নাই। কী খাবো আর কীভাবে বাঁচবো।'

সবমিলিয়ে টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকের স্বপ্ন যেন আবারও পানিতে ভেসে যাচ্ছে। কষ্টের ফসল হারিয়ে চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক।

ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার শঙ্কা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল বলেন, 'এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৯ শতাংশ ধান এখনও জমিতে রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।'