সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাকচালকের তন্দ্রাকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। রোববার (৩ মে) সকালে তেলিবাজার ব্রিজ এলাকায় পিকআপ ও কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘কাঁঠাল নিয়ে ট্রাকের চালক সারারাত গাড়ি চালিয়ে সিলেটের দিকে আসছিলেন। শহর থেকে একটি পিকআপ ভ্যান শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছিল সুনামগঞ্জের দিকে। তেলিবাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে চারজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চারজন মারা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা আসলে… এই জায়গার মধ্যে ড্রাইভার মনে হয় ঘুমাচ্ছিল, যেহেতু রাত থেকেই সে গাড়িটা চালিয়ে এসেছিল। এই জায়গার মধ্যে এমন সরল একটা রাস্তার মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটার কথা না।’ তিনি আশঙ্কা করেন চালকের সহকারী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কিনা।
পুলিশের তদন্ত
তবে বাংলাদেশ পুলিশ ভিন্ন দিকও খতিয়ে দেখছে। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘এত লোড গাড়ি হেলপার চালানোর কথা না। পুলিশ হেলপারকে আটক করেছে। হেলপার পুলিশকে জানিয়েছেন, চালকই ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন। সাধারণত হেলপাররা সড়কে লোড গাড়ি চালান না।’
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রায় ২০ জন নির্মাণশ্রমিক একটি পিকআপে করে কাজের উদ্দেশ্যে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে থেকে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিনও। তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২), ধর্মপাশা উপজেলার নার্গিস আক্তার (৪৫), দিরাইয়ের সেছনি গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম (২৬), দিরাই ইসলামপুরের নুরুজ আলী (৬০) ও নূরনগরের ফরিদুল (৩৫), সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার রায়েরগাঁওয়ের বদরুল আমিন (৪০), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস (২০) এবং পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান।
আহতদের পরিচয়
আহতরা হলেন- হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরীর কালিবাড়ী এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানা লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ববর্তী দুর্ঘটনা
উল্লেখ্য, একই মহাসড়কে এর আগেও বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি সংঘর্ষে ১৫ শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন, যা এই সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



