তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে নতুন করে চারটি কারখানা লিড সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে দেশে লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪টিতে। এর মধ্যে ১২১টি প্লাটিনাম এবং ১৪৪টি গোল্ড রেটিংপ্রাপ্ত— যা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি হাব’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত ১০০টি লিড কারখানার মধ্যে ৫২টিই বাংলাদেশে অবস্থিত— যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
লিড সনদ কী, কেন জরুরি
লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড)— এর সনদ হলো যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) কর্তৃক প্রদত্ত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবেশবান্ধব স্থাপনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এটি নিশ্চিত করে, কোনও ভবন বা কারখানা কম শক্তি ও পানি ব্যবহার করে এবং পরিবেশের ক্ষতি সর্বনিম্ন রেখে টেকসইভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
লিড সনদের মূল দিকগুলো হচ্ছে, পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতি, যা প্রমাণ করে যে— ভবনটি শক্তি সাশ্রয়ী, বর্জ্য কমায় এবং কর্মচারীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করে। বিভিন্ন স্কোরের ওপর ভিত্তি করে এই সনদকে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়— সার্টিফায়েড, সিলভার, গোল্ড এবং প্লাটিনাম। পরিবেশের সুরক্ষা, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এই সনদ অপরিহার্য।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে বাংলাদেশ
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে টেকসই উৎপাদন এখন বড় শর্ত হয়ে উঠেছে। ফলে লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বাড়ানো বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন শুধু উৎপাদনে নয়, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। নতুন কারখানাগুলোর এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।”
টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কম, কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলক কম এবং কর্মপরিবেশও উন্নত। ফলে একদিকে উৎপাদন ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে কমছে, অপরদিকে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে।
তবে এ ধারা অব্যাহত রাখতে নীতিগত সহায়তা, স্বল্প সুদে অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে, নতুন চারটি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংযোজন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে আরও টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



