একটু একটু করে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের সোনালী ফসল। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষক। হাওরজুড়ে দীর্ঘ হচ্ছে কৃষকের কান্না। ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি গবাদিপশুর ১২ মাসের খাবার নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের বেঁচে থাকার কোনও উপায় নেই।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরজুড়ে দেখা গেছে, কৃষকের অনেক ধান তলিয়ে আছে পানির নিচে। কিছু ধান কাটা হলেও মাড়াইয়ের অপেক্ষায় পড়ে আছে খলায়। কৃষকরা নৌকা নিয়ে হাওরের ধান কাটছেন। যদিও এটি এক কঠিন কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। পরিবারের নারী পুরুষ শিশুরা ডুবে থাকা ধান কাটা ও পরিবহনে যুক্ত হয়েছেন।
এ চিত্র শুধু খরচার হাওরের নয়, জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, শান্তিগঞ্জ, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, দিরাই শাল্লাসহ ১০ উপজেলার দেখার হাওর, ছায়ার হাওর, নলুয়ার হাওর, শনির হাওর, টগার হাওর, গুরমার হাওর, ধানকুনিয়ার হাওর, পাগনার হাওরসহ ছোট বড় ১৩৭টি হাওরে এখন এই দৃশ্য। এদিকে উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু, বৌলাই, চলতি, পাটলাই, মহাসিং, রক্তি, যাদুকাটা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রতিদিন জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের একমাত্র অবলম্বন সোনালি ধান।
কৃষকরা জানান, শত বছরেও জলাবদ্ধতায় হাওরের ক্ষেত তলিয়ে যেতে দেখেননি। অপরিকল্পিত বাঁধ, নদীনালা, খালবিল খনন না করায় হাওরের পানি প্রবাহে নষ্ট হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদী খনন না করার ফল ভোগ করছেন হাওরের লাখো কৃষক।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বুধবার রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় হাওর ও নদীর পানি বাড়ার হার কিছু কমেছে। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, চলতি, খাসিয়ামারা, পিয়াইনসহ বিভিন্ন নদীর পানি গড়ে বিপদসীমার দেড় মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
জেলায় চলতি বছর দুই লাখ ২৩ হাজার ৫৩১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।



