বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত শিশু বেঁচেছে
বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত শিশু বেঁচেছে

বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের নয় জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে চারজন, জামালপুরে দুইজন এবং গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, শরীয়তপুর, বরগুনা, রাজবাড়ী ও বাগেরহাটে একজন করে মারা যান।

পটুয়াখালীতে চারজন নিহত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তারা সবাই কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং খোলা মাঠে ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়ার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় দুপুর ১টার দিকে জাহিদ উদ্দিন (২৮) মারা যান। পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামের সেতারা বেগম (৫৫) দুপুর ২টার দিকে গরু চরাতে নিয়ে গেলে বজ্রপাতে নিহত হন। একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামের খালেক হাওলাদার (৫৫) মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান। এর আগে সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালীর চরগাংগা গ্রামের সৌরভ মজুমদার (২২) মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে প্রাণ হারান। রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন এবং কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুরে দুইজন মারা গেছেন

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮) নামে দুইজন নিহত হয়েছেন। বিকেলে গাইবান্ধা ও সাপধারী ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। মোরাকুন্ডি উত্তর বাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে শামীম মিয়া নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়ার স্বাধীন ছেলে সাগর ইসলাম এলজিইডির অধীনে ইন্দুল্লামারী এলাকায় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হন। অন্যদের সরে যেতে পারলেও তিনি পিছিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। ইসলামপুর থানার ওসি আব্দুল কাইউম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গাজীপুর ও ময়মনসিংহে

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বারৈয়া গ্রামে সকালে বজ্রপাতে জাকির হোসেন খান (৩২) নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেন ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়ির কাছে রংশা নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবক মারা যান। তিনি গাবরাগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। তারাকান্দা থানার ওসি তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর, শরীয়তপুর ও বরগুনায়

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সকাল ১১টার দিকে ঝড় শুরু হলে সাহেরা বেগম (৫০) নিজের বাড়ির উঠানে আমগাছের সঙ্গে বাঁধা গরুটি খুঁটে আনার জন্য বের হন। এ সময় বজ্রপাতে তিনি নিহত হন। সায়ের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইবাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় রাজিব শেখ (৩২) নামে এক জেলে ও কৃষক বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। জপসা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দুলাল মোকাদ্দম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বরগুনার আমতলী উপজেলার পুজাখোলা গ্রামের কৃষক নুর জামাল (৫৪) মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকা অবস্থায় মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজবাড়ী ও বাগেরহাটে

রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে সুমন মন্ডল (৩৪) তার সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। মেয়েটি তার বাহু থেকে ছিটকে পড়ে কিন্তু বেঁচে যায়। পরিবারের সদস্যরা সুমনকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিনিয়র স্টাফ নার্স রওশনারা আক্তার জানান, সুমনকে হাসপাতালে আনা হয় সকাল ৭টার দিকে। তার মেয়েও ছিল। সুমন মারা গেছেন, কিন্তু শিশুটি সুস্থ আছে। বাগেরহাটের সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে বিকেলে দিনমজুর রবিন হাওলাদার (৫৩) মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২৭ এপ্রিল সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় পৃথক বজ্রপাতে ছয়জন নিহত এবং তিনজন আহত হন। ২৬ এপ্রিল সাত জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়।