নিউ হোপ ফিড মিল পরিদর্শনে জমি দখল ও দূষণের সত্যতা পেল প্রশাসন
নিউ হোপ ফিড মিলে জমি দখল ও দূষণের সত্যতা পেল প্রশাসন

গাজীপুরের শ্রীপুরে নিউ হোপ ফিড মিল পরিদর্শনে জমি দখল, ফসলি জমির ক্ষতি, বায়ু ও পরিবেশ দূষণসহ নানা অপকর্মের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন একটি টিম। বুধবার এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার দৈনিক যুগান্তরে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পরিদর্শনে যা পাওয়া গেছে

পরিদর্শনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা পেয়ে প্রশাসন দ্রুত জমির বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে গাজীপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরকে দূষণের প্রকৃতি ও পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভুক্তভোগী জমির মালিক পলাশ মণ্ডল জানান, তিনি পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এবং জমি দখলের বিষয়ে ফিড মিল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান। টিম তাকে দ্রুত জমির টাকা বুঝিয়ে নিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে বলে।

পরিবেশ দূষণের সত্যতা

পলাশ মণ্ডল আরও জানান, বায়ু ও পরিবেশ দূষণের সত্যতা পেলেও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা স্পষ্ট নয়। তবে ময়লা বাইরে না যেতে বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, তারা সরেজমিন গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে জমির ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে এবং পরিবেশ দূষণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা

উল্লেখ্য, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় নিউ হোপ ফিড মিল দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, ফসলি জমির ক্ষতি ও দূষণের মতো অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তারা গার্মেন্টসের ঝুট ও বর্জ্য ব্যবসা, ইট-বালু সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। বিদেশিদের জিম্মি করেও বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও ডিলার নিয়োগে কারসাজির অভিযোগও রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিলার হয়রানির অভিযোগ

নাদিম মাহমুদ নামে এক ভুক্তভোগী যুগান্তরকে জানান, গত বছর ১ নভেম্বর নিউ হোপ তাকে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ডিলার নিয়োগ দেয়। তিনি ২০ জন খামারির কাছে মাছের খাদ্য সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন; কিন্তু হঠাৎ খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় তার প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হয়। প্রতিকার চেয়ে কান্ট্রি ডিরেক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল হয়নি। সম্প্রতি অন্য জায়গা থেকে খাদ্য এনে বিক্রির সময় তার অটোগাড়িভর্তি ৩০ বস্তা খাদ্য জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এবং গাড়ি ভাঙচুর ও চালককে মারধর করে। তিনি ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য

নিউ হোপ ফিড মিলের সহকারী ব্যবস্থাপক রাজিবুল হক দাবি করেন, তারা সীমানা প্রাচীরসহ জমি কিনেছেন এবং স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও টাকা বেশি দাবি করায় ব্যর্থ হন। স্থানীয় হোটেল মালিক কাদির মণ্ডল জানান, তার কিছু জমি ফ্যাক্টরির দখলে রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাক্টরি মালিক তাকে কাজ দিয়ে মুখ বন্ধ করেছেন। অপর একজনেরও ৭ শতাংশ জমি দখলে আছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিক্রিয়া

পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল জানান, এ বিষয়ে জানানো হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।