দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দ্রুত বাড়ছে নদ-নদী ও হাওড়ের পানি। এতে হাওড়ের পাকা ও আধাপাকা ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পানির জন্য হারভেস্ট মেশিন দিয়ে পাকা ধান কাটতে পারছেন না।
বহুমুখী সংকটে কৃষকরা
অপরদিকে বৈরী আবহাওয়ায় শ্রমিক সংকটে চোখের সামনে জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওড়ের ফসল। এছাড়া নদীতে পানি বাড়ায় হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও ঝুঁকির মধ্যে আছে। সবকিছু মিলিয়ে বহুমুখী সঙ্কটে দিশেহারা সুনামগঞ্জের লাখো কৃষক পরিবার।
পানি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২২ মিলিমিটার। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টের সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ সেন্টিমিটার। বর্তমানে সুরমা নদীর এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা, নলজুর, পাটলাই, যাদুকাটা, খাসিয়ামারা, বৌলাইসহ সীমান্ত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উজানের ঢলের প্রভাব
সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হওয়ায় নামছে উজানের পাহাড়ি ঢল। এতে হাওড়ে ও নদীতে দ্রুত পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য নদ-নদীতে। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এবং জেলাজুড়ে অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে হাওড়ের নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, হাওড়ে পানি বাড়ছে। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা কাটা ধান মাড়াই করতে পারছেন না। আবার যেসব ধান মাড়াই করেছেন সেসব ধান শুকাতে পারছেন না। তিনি বলেন, আবহাওয়া কৃষকের প্রতিকূলে। ফলে কৃষকেরা গভীর সংকটে পড়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি
সুনামগঞ্জের হাওড় ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন যুগান্তরকে বলেন, সুনামগঞ্জের হাওড়ের কৃষকেরা বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি। প্রথম জলাবদ্ধতায় হাওড়ের বিপুল পরিমাণ ফসল আধাপাকা অবস্থায় নষ্ট হয়েছে। এখন সবকটি হাওড়ে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পানির জন্য হারভেস্ট মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। অপরদিকে বৈরি আবহাওয়ার দরুন ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এবার কৃষকরা ধান নিয়ে মহাসংকটে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছেন তা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে কৃষক পরিবারে হাহাকার দেখা দেবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার যুগান্তরকে জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আরও কয়েকদিন উজান ও দেশের ভেতরে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে সুরমাসহ জেলার সব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এর মধ্যে আবহাওয়া কিছুটা ভালো হয় তাহলে হয়তো কৃষকরা কিছুটা হলেও পাকা ধান কাটতে পারবেন।



