সোনারগাঁয়ের বড়-সুস্বাদু লিচু আসছে বাজারে, দাম কেমন?
সোনারগাঁয়ের বড়-সুস্বাদু লিচু আসছে বাজারে

সোনারগাঁয়ের লিচু বাজারে আসছে শিগগিরই

আকারে বড় ও সুস্বাদু সোনারগাঁয়ের লিচু এবারও বাজারে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে স্থানীয় বাজারে লিচু বিক্রি শুরু করবেন চাষিরা।

সোনারগাঁয়ে সাধারণত তিন প্রজাতির লিচু চাষ হয়: পাতি, কদমী ও বোম্বাই (চায়না-৩)। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এই অঞ্চলের লিচু দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় আগে পাকে। ফলে প্রতিবছর মে মাসের প্রথম দিকেই বাজারে আসে সোনারগাঁয়ের লিচু।

লিচুর ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

লেখক ও গবেষক শামসুদ্দোহা চৌধুরী জানান, পর্তুগিজদের আমলে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে সোনারগাঁয়ে প্রথম লিচু চাষ শুরু হয়। বর্তমানে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৬০টি গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক লিচু বাগান। নতুন করে বাড়ির আঙিনা ও কৃষি জমির পাশেও লিচু চাষ শুরু করেছেন চাষিরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লিচুর দাম ও সংগ্রহ প্রক্রিয়া

গত চার বছর ধরে সোনারগাঁয়ে ১ হাজার পাতি লিচু ৩ হাজার টাকা, কদমী লিচু ৬ হাজার টাকা ও বোম্বাই লিচু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লিচু পাকার ১৫ দিনের মধ্যে বাগান মালিকরা সব লিচু সংগ্রহ করে বাজারে পাঠান। এজন্য রশি, টুকরি, বাঁশের লাঠি ও অস্থায়ী টিনের ঘর তৈরি করা হয়।

চাষিদের ব্যস্ততা ও নিরাপত্তা

সরেজমিনে দেখা গেছে, লিচুচাষিরা তাদের বাগানে কাক, বাদুর, চামচিকা ও চোরের হাত থেকে লিচু রক্ষায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকরা এ কাজে সহায়তা করছেন। দরপত গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী লিটন মুছা জানান, এবার ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা লাভের আশা করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কীটনাশক প্রয়োগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লিচু পাকার জন্য চাষিরা কোনো কীটনাশক ব্যবহার করেন না। তবে লিচু বড় করার জন্য হরমোন, রং ঠিক রাখতে ছত্রাকনাশক ও পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এসব ওষুধ পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত জানান, সোনারগাঁয়ের লিচু আকারে বড় ও সুস্বাদু। আবহাওয়ার কারণে এটি আগে পাকে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় বাগান মালিকরা লাভজনক অবস্থানে থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।