নেত্রকোনায় টানা বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে
নেত্রকোনায় বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক রাতের টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জমিতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন কৃষকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার মোজাফরপুর, কান্দিউড়া, নওপাড়া, বলাইশিমুল ও চিরাং ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর ও বিল প্লাবিত হয়। এতে শত শত একর জমির পাকা ধান পানির নিচে চলে যায়।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোজাফরপুর ইউনিয়নের জালিয়ার হাওর, কান্দিউড়া ইউনিয়নের জালালপুর হাওর, নওপাড়া ইউনিয়নের পাঁচহার কোনাপাড়া হাওর, বলাইশিমুল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া হাওর এবং চিরাং ইউনিয়নের খালিয়াল বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শুধু পানি আর পানি। কোথাও ধানের চিহ্ন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ধান কাটার শেষ সময়ে এসে আকস্মিক এ বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অনেকেই কোমর পানিতে নেমে ডুবে যাওয়া ধান কাটার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হচ্ছেন না।

কৃষকদের প্রতিক্রিয়া

জালালপুর হাওরের কৃষক সাদেক মিয়া জানান, দুই দিন আগেও তার জমির ধান কাটার উপযোগী ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন আর সেই ধান ঘরে তোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। একই উপজেলার নোয়াদিয়া গ্রামের কৃষক মুকুল মিয়া বলেন, “এক রাতের বৃষ্টিতে আমাদের হাওরের হাজার হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এখন জমির দিকে তাকালে শুধু পানি দেখা যায়। এ ক্ষতি আমরা কীভাবে সামাল দেব, বুঝতে পারছি না।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেন্দুয়ায় ২০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে ৩৭৫ হেক্টর বোরো ধান, ৫.৫ হেক্টর সবজি, ৫.৭ হেক্টর পাট এবং ০.৪৫ হেক্টর আমন বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি সহায়তার আশ্বাস

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।