চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পাকা ধানখেত। বাঁধের ভেতরে রাশি রাশি বোরো ধানখেত, যার পাকা ও আধা পাকা ধানের ফলন চারপাশে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। সোনালি ধানের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে দিকে দিকে। তবে বাম্পার ফলনে কৃষকের মনে স্বস্তি থাকলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ও ঝড়ে ফসল নষ্টের শঙ্কায় রয়েছে অস্বস্তি।
বোরো আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের ৯ হাজার ৯৮৪ হেক্টরের চেয়ে বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন। কৃষকেরা ব্রি-২৮, ২৯, ৫৮, ৭৪, ৮১ ও ৮৮-সহ নানা উন্নত জাতের বোরো চাষ করেছেন।
ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে ব্রাহ্মণচক, সাদুল্যাপুর, পশ্চিম দুর্গাপুর, ফতেপুর, লুধুয়া, হরিণা, মিলারচর, পূর্ব হানিরপাড়, মধ্য হানিরপাড়, লুধুয়া, মান্দারতলী ও উত্তর রাঢ়ীকান্দিসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধানখেত। খেতের পাকা ও আধা পাকা ধানের ফলনের ভারে নুইয়ে আছে গাছের ডগা। বৈশাখী বাতাসে খেতে দোল খাচ্ছে ধানের শীষ। কৃষক ও শ্রমিকেরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত। পুরো এলাকা যেন এক টুকরো ‘সোনালি ধানের রাজ্য’।
কৃষকের প্রতিক্রিয়া
মিলারচর গ্রামের কৃষক আল মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে ১০০ শতক জমিতে ব্রি-২৯ জাতের বোরো আবাদ করেছেন। ফলন খুব ভালো হয়েছে। অধিকাংশ ধান এখনো কাটেননি। কিছু পাকা ধান কেটেছেন। খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা, কাটা ও মাড়াইয়ে আরও ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে। খেতে ধান পাবেন প্রায় ৮০ মণ, যা বিক্রি হবে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ধান কইরা লাভ নাই, না কইরাও উপায় নাই। বাজারে চালের দাম বেশি অথচ ধানের দাম কম। লোকসান দিয়া আর কত ধান লাগামু?’
পূর্ব হানিরপাড় গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘খেতে ধানের ফলন ভালো অওনে খুব খুশি ও স্বস্তি লাগতাছে। তয় ধানের দর ভালা না। এলিগা অস্বস্তিও আছে। এ ছাড়া আবহাওয়ার যে লক্ষণ তাতে সব ধান কাটতে পারুম কি না সন্দেহ। খেতের ধান নিয়া টেনশনে আছি।’
কৃষি কর্মকর্তার মন্তব্য
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি কার্যালয় থেকে কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ধানের দাম ন্যায্য না থাকায় কৃষকদের মতো তিনিও কিছুটা চিন্তিত। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের কিছু করার নেই।



