রাসেল ভাইপারের কামড় খেয়েও সাপটি ধরে আনলেন যুবক
কামড় খেয়েও রাসেল ভাইপার ধরে আনলেন যুবক

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আবারও বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এবার মেঘনা নদীর পাড় থেকে রাসেল ভাইপার উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন এক যুবক। পরে ওই সাপটি একটি প্লাস্টিকের বালতিতে ভরে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে যান তিনি।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। সাপের কামড়ে আহত যুবকের নাম মো. সোহেল (৩১), তিনি এখলাসপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মো. সোহেল জানান, সোমবার সকালে মেঘনা নদীর পাড়ে নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি জালে বড় আকৃতির রাসেল ভাইপার সাপ আটকা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সাপটি ছটফট করছিল। তিনি সেটিকে জাল থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে হঠাৎ সাপটি তার হাতে কামড় দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে সাপটিকে ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে প্লাস্টিকের বালতিতে সাপটিকে সংরক্ষণ করে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর পাড় ও নদীর পশ্চিমের চরাঞ্চল বিশেষ করে বোরচর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছরও এখলাসপুর নদীর পাড়ে কয়েকটি রাসেল ভাইপার মারা হয়েছিল।

তারা অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এজন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নদী ও চরাঞ্চলে রাসেল ভাইপারের উপদ্রব আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি জোরদার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের প্রস্তুতি

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। একজন সাপে কাটা রোগীকে প্রথম ধাপে ১০টি ভেনম দিতে হয়। প্রয়োজনে আরও ১০টি দেওয়া হয়। প্রতিটি ভেনমের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। আমরা বর্তমানে প্রায় ২০০টি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি।

প্রশাসনের বক্তব্য

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন কেনার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এই ভ্যাকসিন আগামী দুই বছরেও শেষ হবে না।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া রাসেল ভাইপার সাপটির বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।