মাশরুম চাষে ক্ষতিকর ছত্রাকের সংক্রমণ প্রতিরোধে নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতি নিয়ে চাষিদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) আইইউবি ক্যাম্পাসে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নেন ২০ জন চাষি ও উদ্যোক্তা। এসব চাষি ও উদ্যোক্তা কর্মশালায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
মাশরুম চাষের সম্ভাবনা ও বাধা
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুষ্টিগুণ বাড়ানো থেকে শুরু করে প্রান্তিক পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। কিন্তু, এর প্রসারের পথে দুটি বড় বাধা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে: ক্ষতিকর ছত্রাকের সংক্রমণ এবং যথাযথ বিপণন। অনেক সময় একটি স্পন ব্যাগ থেকে সংক্রমণ শুরু হয়ে পুরো খামারের ফলন নষ্ট করে দেয়। আর যথাযথ বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় মাশরুম চাষ কখনোই তেমন লাভজনক হয়ে উঠতে পারেনি।
নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন
ছত্রাকের সংক্রমণ মোকাবিলায় আইইউবির লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জীবুন্নাহার খন্দকার প্রায় তিন বছর গবেষণা করে একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এতে ক্ষতিকর ছত্রাকের বিস্তার রোধ করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব এবং পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্যও এটি নিরাপদ।
কর্মশালার লক্ষ্য
কর্মশালার দুটি লক্ষ্য ছিল: নতুন পদ্ধতি বিষয়ে উদ্যোক্তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ও তাদের মতামত নিয়ে এটিকে আরও উন্নত করা, এবং টেকসই বিপণন পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের বাস্তব ধারণা দেওয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক। তিনি বলেন, “৪০ বছরে মাশরুম বাংলাদেশের তৃণমূলে পৌঁছেনি। কারণ, সাধারণ মানুষের ভেতর সংশয় কাজ করে যে, এটি আসলেই খাদ্য কি না। ভালো মানের বীজও সহজলভ্য না। এছাড়া বিপণনের সমস্যার কারণে তৃণমূলের মানুষের কাছে মাশরুম এখনও পৌঁছানো যায়নি। এটি এখনও কেবল উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের কাছেই জনপ্রিয়।”
উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা
প্রায় ২০ বছর ধরে মাশরুম চাষের সঙ্গে যুক্ত বগুড়ার প্রিয়জন মাশরুম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাশরুম চাষে উদ্যোক্তা ঝরে পড়ার হার ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এক সময়ের কয়েক লক্ষ উদ্যোক্তার মধ্যে এখন মাত্র গুটিকয়েক উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাশরুমের অনেক গুণ। একটি পরিবার প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকার মাশরুম খেলে অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পারে।”
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড, স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন ড. কে আয়াজ রাব্বানী এবং লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান ড. মো. মাহমুদুল হাসান সোহেল।
কারিগরি সেশন
সেশনের কারিগরি অংশে ড. জীবুন্নাহার খন্দকার তার উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতিটি উপস্থাপন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, “মাশরুম চাষ একটি জ্ঞানভিত্তিক ব্যবসা উদ্যোগ। এখানে ভালো ফলন পেতে হলে দরকার নিয়মিত শেখা এবং তা থেকে চাষের পদ্ধতিতে নিয়মিত পরিবর্তন আনা।” শুধু চাষের পদ্ধতি শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ড. জীবুন্নাহার এর পেছনের বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোও ব্যাখ্যা করেন, যাতে অংশগ্রহণকারীরা পদ্ধতি ও এর বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে বুঝতে পারেন।



