বাগেরহাটের চিতলমারীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও হতাশার ছায়া কৃষকের মুখে। একসঙ্গে ধান পেকে যাওয়ায় সবাই কাটা শুরু করেছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক মিলছে না। এমনকি এক মণ ধান দিয়েও একদিনের জন্য একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
শ্রমিক ও তেলের সংকট
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শেষ সময়ে এসে নতুন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি ধানকাটা ও মাড়াই মেশিন চালাতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলার কুরমনি মাঠের চাষি মালেক শেখ, দুর্গাপুর মাঠের চাষি প্রতুল হালদার ও শ্যামপাড়া গ্রামের বোরোচাষি মধাব বৈরাগীসহ অনেকে জানান, এখন অধিকাংশ ফসলে পাক ধরেছে। বেশিরভাগ স্থানে ধান কাটা শুরু হয়েছে কিন্তু মেশিনের জন্য পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। কৃষি অফিস থেকে তেলের জন্য যে কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সে কার্ড নিয়ে পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইন দিয়েও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট রয়েছেই।
দামের বৈষম্য
বাজারে ধানের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, অথচ একজন শ্রমিকের মজুরি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। এতে দেড় মণ ধানের দাম দিয়ে প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি মেটাতে হচ্ছে। কৃষকদের অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে টাকা এনে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন। এখন কিভাবে আসল ফসল ঘরে তুলবেন এবং ঋণ শোধ করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না বলে হতাশা প্রকাশ করেন।
কৃষি অফিসারের বক্তব্য
উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত-আল-মারুফ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল মাড়াই ও কাটার জন্য এ পর্যন্ত শতাধিক চাষিকে তেলের কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এলাকায় একটি মাত্র তেলের পাম্প থাকায় সেখান থেকে ঠিকমতো তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া সরকার ১ হাজার ৪৪০ টাকায় ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। সেটি চালু হলে চাষিরা সঠিক মূল্য পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



