পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নকল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ ধ্বংস করেছে প্রশাসন। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ভাঙ্গুড়া হাসপাতাল এলাকার কুঠিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এসব উপকরণ ধ্বংস করা হয়।
ধ্বংসকৃত উপকরণের পরিমাণ
ধ্বংস হওয়া উপকরণের মধ্যে রয়েছে ৬০০ কেজি গ্লুকোজ জেলি, ৫০ লিটার সরবিটাল ও ২০০ লিটার গ্লিসারিন। এসব উপকরণ নকল দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হতো বলে জানায় প্রশাসন।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের পরিচয়
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এসআই সুব্রত সাহা জানান, উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আবুল বাশার ও ভবানীপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জিসানের নামে ‘জনতা ট্রান্সপোর্টে’র মাধ্যমে এসব মালামাল আনা হয়। বাশার ও জিসান দু’জনই তাদের কারখানায় নকল দুধ তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আগেও তাদের কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানাও করা হয়েছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলায় বেশ কিছু নকল দুধের কারখানা রয়েছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় দুগ্ধ ব্যবসায়ী আবুল বাশার ও জিসানের তৎপরতার প্রতি নজরদারি করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার জনতা ট্রান্সপোর্টে তাদের নামে আনা ভেজাল বা নকল দুধ তৈরির উপকরণ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা
অভিযান চলাকালে মালিকদের কেউ উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে লাইভস্টক বিভাগকে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দৈনিক ইত্তেফাকে রোববার ‘ভাঙ্গুড়ায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে নকল দুধ তৈরির কারখানা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর তৎপর হয়ে ওঠেন নকল দুধ তৈরির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে দুপুরে অভিযানে নামে প্রশাসন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০০৯ সালের ১২ (২) ও ১২ (৩) ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ১০৩ ধারা বিধান অনুসরণে জব্দ হওয়া মালামাল ধ্বংসের আদেশ দেন। এ সময় উপজেলা লাইভস্টক অফিসার ডা. রুমানা আক্তার ও ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সদস্যরা তাকে সহায়তা করেন।



