মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় প্রায় ৩০ লাখ পশু অবিক্রীত থেকেছে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
কোরবানির পশুর পরিসংখ্যান
প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি পশু। ফলে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু অবিক্রীত থেকেছে। অবিক্রীত পশুগুলোকে ‘উদ্বৃত্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে। গত বছর কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের বিষয়ে সরকারের ভাবনা
যেসব খামারি তাঁদের পশু বিক্রি করতে পারেননি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের বিষয়ে সরকারের ভাবনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সরকার তা বিবেচনা করবে।
মাংসের দাম না কমানোর কারণ
দেশে গরুর সংখ্যা বাড়লেও মাংসের দাম কেন কমছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পশুর খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। সরকার খাদ্যের দাম কমানোর চেষ্টা করছে। ঘাস উৎপাদনের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। ঘাস সঠিকভাবে উৎপাদন করতে পারলে দুধের পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি ঘাসের দামও কমবে।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ কোরবানি
সংবাদ সম্মেলনে সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, এ বছর সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে—২৩ লাখ ৫১ হাজার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ।
প্রাণিসম্পদে আত্মনির্ভরশীলতা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমে কোরবানির চাহিদা পূরণ হওয়া প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।



