ফুলপুরে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে সাঁকো নির্মাণ
ফুলপুরে গ্রামবাসীর অর্থায়নে সাঁকো নির্মাণ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সাঁকো। কংশ নদীর ওপর কাঠের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য- এটি কেবল সাঁকো নয়; এটি গ্রামবাসীর কাছে একটি স্বপ্নের সেতু। তারা আরও জানান, কংশ নদীর ফুলপুর উপজেলা সদর থেকে ১০/১১ কিলোমিটার দূরে সেতুটি নির্মাণে দাবি ছিল বহুবছর ধরে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় সাম্প্রতিক নিজেদের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের টাকা ও শ্রমে সাম্প্রতিক নির্মাণ করা হয়েছে সাঁকো। এই সাঁকোর ওপর দিয়ে বর্তমানে ৮টি গ্রামের মানুষ নিত্যদিন যাতায়াত করেন ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করে থাকেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

সেনেরচর গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'বন্যা কবলিত নিচু এই এলাকার মানুষ সবসময় অবহেলিত। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের নেই পাকা রাস্তা ও সেতু। এতে আমরা পিছিয়ে আছি।' ঘোনাপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম জানান, গ্রামবাসীর অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে। কৃষকরা কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। তাছাড়া কৃষি সরঞ্জাম আনতে খরচ আগের থেকে কমে গেছে।

সেতুর ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ

শনিবার (৩০ মে) ফুলপুর উপজেলা সদর থেকে ১০/১১ কিলোমিটার দূরে ওই সাঁকোতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, এই সেতু দিয়ে নিশুনিয়াকান্দা, সেনেরচর, ঝিলকি, চাতুলিয়াকান্দা, চকেরকান্দা, পুটিয়া, ঘোনাপাড়া ও মালিঝিকান্দা গ্রামের মানুষ, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করছেন। সেই সঙ্গে মোটরসাইকেল, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি চলাচল করতে দেখা গেছে। স্বেচ্ছায় গ্রামের মানুষের দেওয়া ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশ, কাঠ ও গাছের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সেতু নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই সেখানে সরকারি উদ্যোগে পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি পরিকল্পনা

নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। এই দাবি নিয়ে তারা আমার কাছেও এসেছিলেন। সরকারি অর্থায়নে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।