ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ চামড়ার হাটে পাইকার ও ট্যানারি প্রতিনিধি না থাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। আজ শনিবার সকালে হাট বসার কথা থাকলেও ক্রেতা না থাকায় চামড়া স্তূপ করে রাখতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের হতাশা
হালুয়াঘাট থেকে ৪৬টি গরুর চামড়া নিয়ে আসা রামলাল রবিদাস বলেন, 'আজ বড় বাজার হওয়ার কথা। কিন্তু ব্যাপারী নাই একজনও, মাল বেচতে পারতাছি না। ব্যাপারী থাকলে তো মাল বেচতাম। চামড়া নিয়া আমরা এখন বেকায়দায় আছি।' তিনি জানান, ১০০ থেকে ৭০০ টাকায় কাঁচা চামড়া কিনে ২০০ টাকার লবণ ও ১০০ টাকার শ্রমিক খরচ করেছেন। এখন বাজারে কেনার লোক নেই। দুই-তিন বছর ধরে লস দিচ্ছেন। এমন চললে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।
তারাকান্দা উপজেলার সুরেশ রবিদাস এক দশক ধরে চামড়ার ব্যবসায় জড়িত। তিনি এবার ৮০টি গরুর চামড়া কিনে এনেছেন। গত বছর ৪২ হাজার টাকা লস হয়েছিল। তিনি বলেন, 'প্রতিবছর লাভের আশায় চামড়া কিনি, কিন্তু লস করতে হয়। জুতার দাম ১ হাজার ৫০০-২ হাজার টাকা, আর চামড়ার দাম ১০০-২০০ টাকা। আমাদের চামড়া ন্যায্যমূল্যে নেয় না।'
হাটের চিত্র
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট শম্ভুগঞ্জে আজ সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেখা যায়, বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পাইকার ও ট্যানারি প্রতিনিধি না থাকায় অনেকে কাগজ কিনে চামড়া স্তূপ করে রেখে যাচ্ছিলেন। কেউ কেউ ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে দরদাম করছিলেন।
ঈশ্বরগঞ্জের সুধন রবিদাস ২০টি চামড়া এনে বলেন, 'বাজার জমবে মনে কইরা মাল লইয়া আইছি, কিন্তু ব্যাপারী আইলো না। অহন চামড়া টাল দিয়া থইয়া যাইতাছি। পরে যেদিন বাজার জমবো, হেইদিন আবার আসমু।'
স্থানীয় পাইকারের বক্তব্য
স্থানীয় পাইকার মো. আবদুল কাদির বলেন, 'আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করি। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও আমরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাই না। প্রতিবছর দাম লস করতে করতে এখন সব সম্বল শেষ। ট্যানারিমালিকেরা যদি যথাযথ মূল্য দেন, তাহলে হয়তো আসল নিয়া ঘরে ফিরতে পারব।'
ইজারাদারের প্রতিনিধির মত
হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, 'আমরা ট্যানারিমালিকদের আহ্বান জানিয়েছি এখানে এসে চামড়া কেনার জন্য। ট্যানারিরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়ার মূল্য কমিয়ে দেয়। এতে প্রান্তিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গত বছরও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার সরকারের ঠিক করে দেওয়া মূল্যে চামড়া কিনবেন বলে আশা করছি।'
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, 'বাধ্য হয়ে চামড়া বিক্রি রোধ করতে আমরা স্টেকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বিনা মূল্যে লবণ দেওয়া হয়েছে। লবণ দেওয়া চামড়া ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। কম দাম হলে তাঁরা চামড়া বিক্রি করবেন না। যাঁরা চামড়া কেনেন, তাঁদের সরকারনির্ধারিত মূল্যে কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'



