ডিমওয়ালা মা মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং পোনামাছ নিধন বন্ধে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলে ৩১ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।
নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে উপজেলার নদ-নদী, বিল ও হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব
শুকনো মৌসুমে এ উপজেলার জলাভূমির আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর হলেও বর্ষা মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ২৮০ হেক্টরে। বিস্তীর্ণ এ হাওরাঞ্চল দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, খালিয়াজুরী উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১০ হাজার ২১১ জন। এছাড়া মৌসুমি জেলেসহ অন্তত ১৫ হাজার মানুষ মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য
তিনি বলেন, ‘মাছের নিরাপদ প্রজনন ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি আরও জানান, এবার সরকারিভাবে জেলেদের জন্য কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু সহায়তা দেওয়ার মৌখিক ঘোষণা দিয়েছেন। এ জন্য নতুন করে জেলেদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আইনি ব্যবস্থা
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই হাওরাঞ্চলের সব জেলেকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রচারণা ও সতর্কতা
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছে মৎস্য বিভাগ। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেদের সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমিতির মাধ্যমে মুঠোফোনে জেলেদের কাছে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।



