কোরবানি ঈদের পশু জবাই করাসহ মাংস কাটাকাটি ও প্রক্রিয়া করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে আহত হয়ে অন্তত শতাধিক বিভিন্ন বয়সী মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার বই থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
আহতদের অবস্থা
আহতদের বেশিরভাগই হাত-পায়ের আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কারও অবস্থাই গুরুতর নয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে আছেন তাজুল (৫৮), জাবেদ (১৮), হানিফ (২২), নওশাদ (২৫), মাশেক (২৫), সোহাগ (৪০), জিতনি (১৮), খায়ের (৩৫), আলভী (১২), বিশাল (২০) ও জাহাঙ্গীর (৪২) সহ আরও অনেকে। তাদের কারো হাতে কারো পায়ে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ
জানা গেছে, ঈদুল আজহার দিন শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য পশু কোরবানি হয়েছে। এসব পশু কোরবানি করতে গিয়ে মৌসুমী কসাই এবং কোরবানিদাতাদের পরিবারের সদস্যরা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মাংস কাটতে গিয়ে ধারালো ছুরির আঘাতে আহত হন। তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রাইভেট ক্লিনিকেও এ ধরনের রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহতদের বক্তব্য
শহরের কাজীপাড়ার সোহাগ মিয়া বলেন, পায়ের নিচে রেখে মাংস কাটতে গিয়ে পায়ে কোপ পড়ে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। ভাদুঘর এলাকার হানিফ মিয়া জানান, সকালে গরুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত হাতে ছুরি লেগে কেটে যায়, পরে হাসপাতালে এসে ব্যান্ডেজ করা হয়। নবীনগরের বাইশমৌজা থেকে আসা খায়ের জানান, মহিষ জবাই করার সময় বাঁধ ছিঁড়ে গিয়ে তার ওপর ছিটকে পড়ে, ফলে হাত, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
চিকিৎসকের বক্তব্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভ্র রায় জানান, সকাল থেকে প্রায় শতাধিক রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আহত হয়েছেন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কারও অবস্থা গুরুতর নয়, সবাই শঙ্কামুক্ত। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরও আহতরা হাসপাতালে আসছিলেন।



