নরসিংদীতে খাজনাবিহীন পশুর হাটে ক্রেতার ঢল, তিন হাজার পশু বিক্রি
নরসিংদীতে খাজনাবিহীন হাটে বিক্রি তিন হাজার পশু

নরসিংদীতে খাজনাবিহীন পশুর হাটে ক্রেতার ঢল

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী খাজনাবিহীন পশুর হাটে কোরবানির পশুর কেনাবেচা জমে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা গরু, মহিষ ও ছাগলে মুখর হয়ে উঠেছে সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের করিমপুর অস্থায়ী পশুর হাট।

খাজনা বা হাসিল না থাকায় হাটটিতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতি হাটে প্রায় ১০ হাজার পশু উঠেছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার পশু বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার পশু বিক্রির আশা করছেন তারা।

জানা গেছে, নরসিংদীর অন্যতম পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী এই পশুর হাট প্রতিবছর সদর উপজেলার করিমপুর ফুটবল মাঠে বসে। হাটটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে পশু বিক্রির বিপরীতে বিক্রেতাদের কোনো ধরনের হাসিল বা খাজনা দিতে হয় না। ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ ছাড়াই বিক্রেতারা পশু বিক্রি করতে পারেন এবং ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে পশু কেনার সুযোগ পান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ বছর করিমপুর প্রবাসী ঐক্য ফোরামের উদ্যোগে এবং স্থানীয় ছাত্রসমাজের সহযোগিতায় হাটটির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, সরকারি প্রায় ৮০ হাজার টাকা ইজারা পরিশোধ করে হাটটিকে খাজনামুক্ত রাখা হয়েছে।

পশুর প্রকার ও দাম

হাটে বিভিন্ন জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু, মহিষ ও ছাগল উঠেছে। পশুর দাম শুরু হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা থেকে, যা পাঁচ লাখ টাকারও বেশি পর্যন্ত রয়েছে।

নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা

হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যা বেশি এসেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ব্যাংকিং সুবিধার পাশাপাশি টাকা নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য চালু করা হয়েছে লকার ব্যবস্থা। এছাড়া জাল নোট শনাক্তের জন্য রয়েছে বিশেষ মেশিন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রেতা-বিক্রেতাদের মতামত

হাটে গরু কিনতে আসা সাকিব মিয়া বলেন, "আমার বাসা মহিষাসুরা এলাকায়। আমাদের এলাকাতেও হাট আছে, তারপরও আমি করিমপুরের এই হাটে এসেছি। এখানে সব সময় অনেক পশু পাওয়া যায়। একটি গরু পছন্দ হয়েছে, দামাদামি চলছে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো গরু কিনলে কোনো খাজনা দিতে হয় না।"

আরেক ক্রেতা মাইনুদ্দিন বলেন, "নরসিংদীর মধ্যে এত বেশি গরু-মহিষ আমি আর কোনো হাটে দেখিনি। এত পশু আগে কখনো দেখিনি। তবে দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। আবার আবহাওয়াও ভালো না, তাই ঘুরে ঘুরে দেখতে কষ্ট হচ্ছে। পা ফেলার জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না।"

বিক্রেতা সোনা মিয়া বলেন, "প্রতি বছর এই হাটে গরু নিয়ে আসি এবং বিক্রিও ভালো হয়। এবার চারটি গরু এনেছি। এর মধ্যে দুটি বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি দুটিরও দামাদামি চলছে। আশা করছি বিক্রি হয়ে যাবে।"

আয়োজকদের বক্তব্য

করিমপুর প্রবাসী ঐক্য ফোরামের সাকিল মাহমুদ বলেন, "প্রতিবছরই এখানে খাজনাবিহীন পশুর হাট বসে। এই বাজারটি সবার জন্য। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। জাল নোট শনাক্তের মেশিনসহ নানা ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে।"

করিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, "গত আট বছর ধরে এই হাট সম্পূর্ণ খাজনামুক্ত রাখা হয়েছে। প্রতি বছর সরকারি ইজারা পরিশোধ করে প্রবাসী ঐক্য ফোরাম হাট পরিচালনা করে। এখানে ব্যাংকিং সুবিধা, টাকা সংরক্ষণের জন্য লকার এবং জাল নোট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে যারা পশু নিয়ে আসছেন তাদের থাকারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই হাজার পশু কেনাবেচা হয়ে গেছে, আশা করি তিন হাজার পশু বিক্রি হবে। এবার অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি পশু এসেছে।"

গত আট বছর ধরে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই হাট ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।