টাঙ্গাইলে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নিহতদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা
সংগঠনের সভাপতি ডা. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সহ সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল ও রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস।
নেতাদের বক্তব্য
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কোরবানির পশু পরিবহনে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, দিনরাত পরিশ্রম করে আয় করা অর্থ বাঁচাতেই ওই শ্রমিকেরা রড বোঝাই ট্রাকে চড়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। সরকারের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকলে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হতো না। তিনি এই মৃত্যুকে 'কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ডা. ফজলুর রহমান বলেন, গ্রামে সারা বছর কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে এই মানুষগুলো শহরে আসেন। দুই হাজার টাকা বাসভাড়া তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়, তাই তারা ট্রাকে উঠতে বাধ্য হন। তিনি নিহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং আহতদের সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানান।
অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা প্রশ্ন তোলেন, কৃষক ও ক্ষেতমজুরেরাই দেশের মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করেন এবং সবচেয়ে বেশি কর দেন, অথচ তাদের সারা বছর কাজ ও খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, 'তাদের কেন বাড়ি ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য জেলায় কাজ করতে হবে?'
আব্দুল কুদ্দুস প্রশ্ন তোলেন, 'বাসের ছাদে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ হলেও রড বোঝাই ট্রাকে এত মানুষ মহাসড়কে গেল, অথচ ট্রাফিক পুলিশের চোখে পড়ল না কেন?'
সরকারের প্রতি আহ্বান
সমাবেশ থেকে নেতারা সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে কেবল বক্তৃতা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।



