ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে অতীতের তুলনায় এবার যাত্রীদের ভোগান্তি তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ ও পরিস্থিতি
মঙ্গলবার (২৬ মে) পাটুরিয়া ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট এবং লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা যায়, সকালে ঘাট এলাকায় তেমন চাপ না থাকলেও দুপুরের দিকে যানবাহন ও যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এদিকে আকস্মিক ঝড়ের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের ভিড়ও বেড়ে যায়। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত
ঘাটে আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, যানবাহনের ভাড়া তুলনামূলক বেশি নেওয়া হলেও এবার রাস্তায় দীর্ঘ যানজট কিংবা অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি। সাতক্ষীরাগামী যাত্রী মো. মেহেদী হাসান বলেন, 'আমি এসেছি শ্যামলী থেকে, যাব সাতক্ষীরা দেশের বাড়িতে। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করব। রাস্তায় ভোগান্তি না থাকলে আমার কাছে মনে হচ্ছে গাড়ি ভাড়া তুলনামূলক বেশি।'
গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করা চুয়াডাঙ্গার মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, 'আমি এসেছি গাজীপুর থেকে যাব চুয়াডাঙ্গায়, রাস্তায় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি যানবাহন ছিল। তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে যানবাহনের ভাড়াটা অনেক বেশি। এ বিষয়ে দেখলাম সরকারের পক্ষে থেকে কারো কোনো তদারকি নেই।'
মিজানুর রহমান চাকরি করেন নবীনগরের একটা পোশাক কারখানায়; যাবেন বরিশাল। তিনি বলেন, 'আমাদের রাস্তায় কোনো ভোগান্তি হয়নি। তবে ১০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা করে।'
বিআইডব্লিউটিসির প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সালাম হোসেন বলেন, 'ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি আছে। সুন্দরভাবে ঘরমুখো মানুষদের পারাপার করতে পারছি। আর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি ফেরিতে ওঠাচ্ছি। ঝড়ের কারণে মাঝে মাঝে লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়, তখন আমরা যাত্রীদের অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করি।'
সামগ্রিকভাবে, পাটুরিয়ায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও এবার যাত্রীরা তুলনামূলক কম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। তবে যানবাহনের ভাড়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন যাত্রীরা।



