ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির আগে ও পরে যত্ন নেওয়ার পরামর্শ
ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির আগে ও পরে যত্ন নেওয়ার পরামর্শ

আর দুই দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। এজন্য অনেকেই ইতোমধ্যে কোরবানির পশু কিনেছেন। তবে পশু কিনলেই তো হবে না— এই পশুকে কোরবানির আগ পর্যন্ত করতে হবে পরম যত্ন। পশুর যত্ন কীভাবে নিতে হবে তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ।

পশু কেনার পর করণীয়

সুস্থ পশু ক্রয়ের পরে তাকে যতটা সম্ভব কম হাঁটিয়ে বা গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে। বাড়ি নিয়ে প্রথমেই পশুকে পটাশ (পিপিএম) পানি দিয়ে গোসল করানো ভালো। পশুহাট ফেরত সকলেই হাত-পা সাবান দিয়ে ধুতে হবে, সম্ভব হলে গোসল করতে হবে। প্রথমে পশুকে ৩-৫ লিটার যথাযথভাবে মেশানো স্যালাইন পানি পান করাতে হবে। পেটফাঁপা বা বদহজম থাকলে ১ কেজি পানিতে ১০০ গ্রাম খাবার সোডা মিশিয়ে খাইয়ে দিতে হবে। এরপরে কিছু কাঁচা ঘাস বা শুকনো খড় দিতে হবে, ঘণ্টা খানেক পরে দানাদার খাদ্য যেমন- কুঁড়া, ভুসি, খৈল প্রভৃতি খেতে দেওয়া যাবে।

কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত করণীয়

পশুর থাকার জায়গা, দাঁড়ানোর ও শোবার জন্য উপযুক্ত হতে হবে নতুবা তার মাংসের গুণগত মান হ্রাস পাবে। প্রতিদিন কোরবানি পশুকে একই সময়ে গোসল করাতে হবে। সকালে ও রাতে পশুকে খড় বা ঘাস (দানাদার খাদ্য নয়) খেতে দিতে হবে। দিনে কেবল দুইবার দানাদার খাদ্য দিতে হবে, তার মোট পরিমাণ পশুর শারীরিক ওজনের এক শতাংশের বেশি হবে না। পশুর সামনে সবসময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি নিশ্চিত করতে হবে। সারাদিন পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস ও খড় খেতে দিতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোরবানির ১২ ঘণ্টা আগে করণীয়

কোরবানির ১২ ঘণ্টা আগে থেকে দানাদার খাদ্য বন্ধ করে শুধু খড় ও পানি খেতে দিতে হবে। অসুস্থতা দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোরবানির সময় করণীয়

কোরবানির সকালে কেবল খাবার সোডা মিশ্রিত পানি পান করানো যাবে, অন্য কিছু নয়। যত্রতত্র জবাই না করে যথাসম্ভব নির্ধারিত জায়গায় সকালে জবাই করতে হবে। একাধিক অপশন থাকলে জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নাগরিকের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ইত্যাদি বিবেচনাপূর্বক একটি সার্বজনীন জায়গা নির্বাচন করতে হবে। জবাইয়ের আগে নির্ধারিত স্থানে গর্ত খুঁড়ে রাখতে হবে। পশুকে ভালোভাবে বাঁধার জন্য পর্যাপ্ত পাটের নতুন বা পরিষ্কার দড়ি আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। জবাইয়ের সময় পশু যাতে কম কষ্ট পায় সেদিকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য রাখতে হবে। জবাইয়ের জন্য বাঁধার আগে পশুর গায়ে হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করে, হৈহুল্লোড় এড়িয়ে সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, যেকোনও ধকল, ভীতি বা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা, যা মাংসের গুণগত মান হ্রাস করবে। অবশ্যই অবশ্যই পর্যাপ্ত ধারালো ছুরি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিশু, অতিবৃদ্ধ বা মানসিকভাবে সবল নয় এমন লোকজনকে জবাইয়ের সময় উপস্থিত থাকা যথাসম্ভব নিরুৎসাহিত করতে হবে।