আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে কোরবানির পশু কিনতে হাটে ভিড় করছেন অনেকে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও দীর্ঘ পথ যাতায়াতের কারণে পশুটি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই বাড়িতে আনার পর পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু করণীয় মেনে চলা জরুরি।
পরিবহণ ও বিশ্রাম
প্রথমত, কুরবানির পশুকে হাঁটিয়ে না এনে গাড়িতে করে বাড়িতে আনা ভালো। বাড়িতে পৌঁছানোর পর পশুকে একটি শুকনো, বাতাস চলাচল করে এমন, ছায়াযুক্ত ও পরিষ্কার জায়গায় রাখতে হবে। বৃষ্টি থেকে রক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পশুকে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা বিশ্রাম দিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে খাবার দেওয়া যাবে না। তবে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি দিতে হবে।
পৃথক রাখা ও পরিচ্ছন্নতা
বাড়িতে অন্য পশু থাকলে নতুন পশুটিকে আলাদা রাখা উচিত। পশুর মলমূত্র সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়িতে আনার পর পশুর পা পটাশ দিয়ে ধুয়ে দেওয়া ভালো।
পেট ফেঁপে যাওয়া
অতিরিক্ত গরমে গরুর পেট ফেঁপে যেতে পারে এবং খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। এ অবস্থায় খাওয়ার সোডা, আদা ও কালোজিরার মিশ্রণ বা বাজারে পাওয়া অ্যান্টি-ব্লোট লিকুইড খাওয়ানো যেতে পারে। জাইমোভেট নামক পাউডারও ব্যবহার করা যায়।
খাদ্যাভ্যাস
পশুকে হঠাৎ বেশি খাবার না দিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করতে হবে। কাঁচা ঘাস ও খড় পশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ খাদ্য।
জ্বর ও শ্বাসকষ্ট
দীর্ঘ পথের ক্লান্তিতে পশুর জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ অবস্থায় জোর না করে পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম দিন। পানির সঙ্গে স্যালাইন দিলে আরাম হয়। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে।
হিট স্ট্রোক
তীব্র গরম ও আর্দ্রতায় পশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তখন পশু ঘন ঘন হাঁপায়, মুখ দিয়ে লালা পড়ে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। দ্রুত পশুকে ছায়ায় ও শীতল স্থানে নিয়ে যান। মাথায় ও শরীরে বারবার ঠান্ডা পানি ঢালুন।
ক্ষতস্থান
ট্রাক থেকে নামার সময় বা অন্য কারণে শরীরে কেটে গেলে ক্ষতের গভীরতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন। হালকা ক্ষতে ভায়োডিন ব্যবহার করুন, গভীর ক্ষতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি বা সিভিট খাওয়ানো ভালো।



