গাবতলী পশুর হাটে ‘কালো জামাই’ নামের একটি ষাঁড়ের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫৫ লাখ টাকা। ষাঁড়টির ওজন ১ হাজার ৫০০ কেজি। পাশাপাশি বাঁধা ‘সাদা জামাই’র দাম ৪৫ লাখ টাকা, যার ওজন ১ হাজার ৩০০ কেজি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে ষাঁড় দুটি নিয়ে এসেছেন খামারি ইয়াকুব আলী।
খামারির খরচ ও লালনপালন
ইয়াকুব আলী জানান, তাঁর খামারে মোট ২০টি গরু রয়েছে। ষাঁড় দুটির পেছনে মাসে খরচ হয় ৩৬ হাজার টাকা। কালো জামাইকে পাঁচ বছর এবং সাদা জামাইকে সাড়ে চার বছর ধরে লালনপালন করেছেন। দুটি ষাঁড়ই ফ্রিজিয়ান জাতের।
গাবতলী হাটে অন্যান্য দামি পশু
হাটে ঘুরে দেখা গেছে ‘নবাব’ নামের একটি ষাঁড়, যা কুষ্টিয়া থেকে এসেছে। এর দাম ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খামারি সাইদুল ইসলাম জানান, লোকজন শুধু দাম জিজ্ঞেস করছে, কিনতে আসবে এক-দুদিন পর।
‘লাল বাদশাহ’ নামের আরেকটি ষাঁড়ের দাম ৫০ লাখ টাকা চাইছেন ব্যাপারী জিয়াউর রহমান। ব্রাহমা জাতের এই ষাঁড়ের ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি। তিনি ৪৬টি গরু নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে এসেছেন এবং চার লাখ টাকার নিচে কোনো গরু নেই তাঁর কাছে।
মহিষ ও ছাগলের বাজার
কেরানীগঞ্জ থেকে আসা ‘টাইগার’ নামের একটি মহিষের দাম ২৫ লাখ টাকা। ওজন ১ হাজার কেজি। খামারি মজিবর রহমান জানান, কেউ টাইগার কিনলে একটি ভুট্টি (ছোট গরু) উপহার দেবেন। তবে গতকাল দুপুর পর্যন্ত কেউ দরদাম করেনি।
ছাগলের বাজারেও দাম চড়া। যমুনাপারি জাতের একটি ছাগলের দাম ১ লাখ টাকা, যার লাইভ ওয়েট ১৪০ কেজি। হরিয়ানা জাতের ‘মধু’ নামের ছাগলের দাম ৭৫ হাজার টাকা এবং সংকর জাতের ‘হীরা’র দাম ৭০ হাজার টাকা। ব্যাপারী হারুন শেখ গতকাল ২৫টি ছাগল ২০-২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
ক্রেতা ও ব্যাপারীদের মতামত
ক্রেতারা বলছেন, এবার কোরবানির পশুর দাম তুলনামূলক বেশি। খামারি ও ব্যাপারীরা জানান, পশুখাদ্য, শ্রমিক মজুরি, বিদ্যুৎ বিলসহ সব খরচ বেড়েছে। কুষ্টিয়া থেকে ৩০টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী আল আমিন বলেন, এক লাখ টাকার নিচে কোনো গরু নেই। বাড়তি দাম না পেলে লোকসান হবে।
তবে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু (৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা) বেশি বিক্রি হচ্ছে। লালবাগের জাফর রানা ৮৪ হাজার টাকায় একটি ছোট ষাঁড় কিনেছেন। অন্যদিকে মিরপুরের আহসান জামিল অভিযোগ করেন, পাঁচ মণ ওজনের গরুর জন্য তিন লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।
ব্যাপারীরা আশা করছেন, রোববার থেকে বেচাকেনা বাড়বে এবং মঙ্গল ও বুধবার মূল বেচাকেনা হবে।



