চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতিতে বন সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মাঝে ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকার লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেছে বন বিভাগ। বন রক্ষা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠান
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের আয়োজনে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ অফিস চত্বরে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
লভ্যাংশ বিতরণের বিবরণ
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৫-০৬, ২০০৬-০৭ ও ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সামাজিক বনায়নের আওতায় সৃজিত বাগানের গাছ বিক্রির লভ্যাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ হারে তিন ক্যাটাগরির ৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ। চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূর জাহান বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্বাস উদ্দিন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুর আলম, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বনবিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার দরফদার, আজিজনগর বনবিট কর্মকর্তা রেজাউল করিমসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, সামাজিক বনায়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বন সংরক্ষণের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের স্বনির্ভর করে তোলা। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তিনি বন রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন ও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
উপকারভোগীর প্রতিক্রিয়া
চুনতি বনপুকুর এলাকার উপকারভোগী জসিম উদ্দীন বলেন, এই টাকা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায়তা। মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে পারব। এই টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ের কথা কল্পনাও করতে পারতাম না।



