ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি অপরিপক্ব ছাগলকে কুরবানীযোগ্য দেখাতে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে তার দাঁত তোলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার মহিলা কলেজ গেট সংলগ্ন আলভি ডেন্টালে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, ঘটনা সম্পর্কে জানার পর পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকা থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তি ও তার একজন সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে তারা ছাগলের দাঁত তোলার কথা স্বীকার করেন। অভিযুক্ত লিটন ও তার সহযোগী দাবি করেন, ছাগলের দাঁতটি নড়বড়ে ছিল, তাই সেটি তুলে ফেলা হয়েছে এবং ছাগলটিকে হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
প্রশ্নের মুখে অভিযুক্ত
তবে ছাগলের দাঁত তোলার জন্য পশু চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে মানুষের ডেন্টাল কেয়ারে কেন নেওয়া হলো—এমন প্রশ্নে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। তারা বলেন, ‘এখানে দাঁত তোলা হয়, এটা জেনেই আমরা ছাগলটি নিয়ে এসেছিলাম।’
স্থানীয়দের ক্ষোভ
এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুরবানির মতো একটি পবিত্র ও ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন প্রতারণা করা মোটেও ঠিক নয়, এটি নিন্দনীয়। কম বয়সী ছাগলের দাঁত তুলে সেটির বয়স গোপন করে কুরবানিযোগ্য বা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে হাটে বিক্রি করা স্পষ্টত ক্রেতাদের সাথে এক ধরনের বড় প্রতারণা। একই সঙ্গে প্রাণীর প্রতিও নিষ্ঠুর আচরণ।
ডেন্টাল কেয়ারের বক্তব্য
এ ব্যাপারে আলভি ডেন্টাল কেয়ারের মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী না বুঝেই ছাগলের দাঁত তুলেছে। রাকিব নামের এক ব্যক্তি দাঁত তোলার কথা স্বীকার করে বলেন, পরিচিত একজন নিয়ে এসেছে, এ কারণে দাঁত তুলেছি। এই জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
আইনগত দিক
ত্রিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।



