পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সাতক্ষীরায় এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তিনটি বিশাল আকৃতির ছাগল। দূর থেকে দেখলে ছোট ঘোড়ার মতো মনে হলেও কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো আসলে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা তিনটি বড় ছাগল, যাদের ওজন ৫৪ থেকে ৭৬ কেজির মধ্যে। সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমিরুল ইসলামের খামারে বেড়ে ওঠা এই ছাগল তিনটি ইতিমধ্যে স্থানীয় ঈদবাজারে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
দর্শনার্থীদের ভিড়
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খামারে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে এসেছি, কিন্তু সামনে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি।’ আরেক দর্শনার্থী কলেজছাত্র শাওন হোসেন জানান, ছাগলগুলো শুধু বড়ই নয়, খুব যত্নসহকারে লালন করা হয়েছে, দেখলেই বোঝা যায়।
বিশেষ যত্ন ও খাদ্য
খামার সূত্রে জানা যায়, কালো, খয়েরি ও সাদা রঙের এই তিনটি ছাগল আলাদা পরিচ্ছন্ন ঘরে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী গোসল করানো হয় এবং তিন বেলা বিশেষ খাদ্য হিসেবে ভুসি, কুঁড়া, পালিশ, সয়াবিন খইল ও তাজা ঘাস দেওয়া হয়। শুধু এই তিন ছাগলের খাবারেই দৈনিক প্রায় ৩০০ টাকা খরচ হয় বলে জানান খামারসংশ্লিষ্টরা।
খামারের মালিকের পরিচয়
খামারের মালিক আমিরুল ইসলাম দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বিদেশি জাহাজে কর্মরত একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। প্রায় ছয় বছর আগে শখের বশে তিনি ২৮ হাজার টাকায় একটি পুরুষ ছাগল এবং ১২ হাজার টাকা করে দুটি মাদি ছাগল কিনে খামার শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় পরিসরে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তার আট বিঘা জমিতে ছাগল ছাড়াও মাছের পুকুর, গাছপালা ও কবুতরের খামার রয়েছে। পাশাপাশি দেড় বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন তিনি।
বিক্রির পরিকল্পনা
আমিরুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত তিন বছর ধরে তিনি বিশেষভাবে বড় আকৃতির ছাগল প্রস্তুত করছেন। এবার তার খামারের তিনটি ছাগলের মধ্যে সাদা ছাগলটির ওজন ৭৬ কেজি, খয়েরিটি ৬৪ কেজি এবং কালোটির ওজন ৫৪ কেজি। জীবন্ত ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে তার। এরই মধ্যে খয়েরি রঙের ছাগলটি তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রতি কেজি ৭০০ টাকা দরে কিনে নিয়েছেন, যার মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা। তবে ছাগলটি এখনো হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞের মতামত
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন বলেন, দেশে সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বেশি পালিত হলেও ক্রস জাতের ছাগল বড় আকৃতির হয়ে থাকে। খরচ কিছুটা বেশি হলেও এ ধরনের ছাগলের বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে।



